ধনধান্যে হঠাৎ বন্ধ গীতাপাঠ, চালু করলেন শুভেন্দু নিজেই
প্রতিদিন | ১৬ মে ২০২৬
ধর্মপ্রাণ মানুষের ভাবাবেগকে মর্যাদা দিয়ে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। আলিপুরের ধনধান্য অডিটোরিয়ামে তাঁর একটি কর্মসূচিকে শিখণ্ডি করে হঠাৎ বন্ধ করা হয়েছিল গীতাপাঠের আসর। কিন্তু শুভেন্দু নিজেই হস্তক্ষেপ করে চালু রেখেছেন সেই ধর্মীয় অনুষ্ঠান। গত ১১ মে থেকে ধনধান্যে শুরু হয়েছে এক সপ্তাহব্যাপী ‘পুষ্টিশ্রী শ্রীমদ্ভাগবত কথা’। ভবানীপুর এলাকার ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা, প্রধানত মারোয়াড়ি ও গুজরাটি সম্প্রদায়ের প্রায় দুই হাজার ভক্ত প্রতিদিন এই আধ্যাত্মিক আসরে যোগ দিচ্ছেন। ১৭ মে, তথা আগামী রবিবার এই অনুষ্ঠানের সমাপ্তি।
কিন্তু শুক্রবার রাত আটটা নাগাদ হঠাৎ ধনধান্য অডিটোরিয়াম কর্তৃপক্ষের তরফে আয়োজকদের জানানো হয়, ১৭ তারিখের হল বুকিংটি বাতিল করা হয়েছে। ওইদিন ওই অডিটোরিয়ামে মুখ্যমন্ত্রীর অনুষ্ঠান রয়েছে বলে হল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়। আয়োজকদের অভিযোগ, তৃণমূলের এক শীর্ষনেতা, যিনি এখনও বড় সরকারি পদে রয়েছেন, তাঁর নির্দেশেই গীতাপাঠের অনুষ্ঠানটি আচমকা বন্ধ করা হয়। প্রায় ছ’মাস আগে থেকে হল বুক করে হওয়া ওই ধর্মীয় অনুষ্ঠান মাত্র ২৪ ঘণ্টার নোটিশে বাতিল করার কথা জানানোয় চাঞ্চল্য পড়ে।
আয়োজকদের তরফেই প্রশ্ন ওঠে, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে সনাতনী আদর্শে বিশ্বাসী এবং ওই ভবানীপুর কেন্দ্রেরই বিধায়ক, সেখানে তাঁর কর্মসূচির দোহাই দিয়ে কেন এমন ধর্মীয় অনুষ্ঠান বাতিল করা হবে? আয়োজকদের তরফে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে বলা হয়, এত অল্প সময়ের মধ্যে তাঁদের পক্ষে বিকল্প জায়গা ঠিক করা অসম্ভব এবং এভাবে অনুষ্ঠানটি বাতিল হলে মানুষের ভাবাবেগে আঘাত লাগবে। শুক্রবার রাতেই বিষয়টি শুভেন্দুর নজরে যেতে তিনি তৎক্ষণাৎ হস্তক্ষেপ করেন।
প্রশাসনের আধিকারিকদের শুভেন্দু স্পষ্ট নির্দেশ দেন, ১৭ মে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী গীতাপাঠের আসর চলবে। প্রয়োজনে সরকারি কর্মসূচির সময় ও স্থানের পরিবর্তন করা হবে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, উদ্যোক্তাদের ভাবাবেগকে আঘাত করা যাবে না। মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপে উচ্ছ্বসিত আয়োজকরা। বেশি রাতে তাঁদের তরফে জানানো হয়, মুখ্যমন্ত্রী তথা তাঁদের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীর পদক্ষেপে তারা উল্লসিত। তাঁদের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী প্রমাণ করলেন তিনি প্রকৃত অর্থেই একজন সনাতনী। তাঁর হস্তক্ষেপেই অনুষ্ঠানটি সাতদিনের পূর্ণতা পাচ্ছে। রবিবার বিকেল চারটে থেকে সন্ধ্যে সাতটা পর্যন্ত যথারীতি গীতাপাঠের আসর চলবে বলে আয়োজকদের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়।