• অধিকারের বার্তা স্পিকারের, পুরনো দাবি প্রাক্তনের
    আনন্দবাজার | ১৬ মে ২০২৬
  • বিরোধীদের অধিকার নিশ্চিত করার আশ্বাসে বিজেপি-শাসিত অন্য রাজ্যের উদাহরণ টানলেন রাজ্য বিধানসভার নবনির্বাচিত স্পিকার রথীন্দ্র বসু। সংখ্যাগরিষ্ঠ বিজেপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে শুক্রবারই নির্বাচিত হয়ে স্পিকার বলেন, ‘‘বিরোধীদের সব অধিকার সুরক্ষিত হবে। দেশের ২১টি রাজ্যে বিজেপি সরকার চালাচ্ছে। এখানেও তা-ই হবে।’’

    নতুন বিধানসভার প্রথম অধিবেশনে বিজেপি বিধায়ক তাপস রায় ‘দেশ-বিরোধী’ স্লোগান নিষিদ্ধ করতে আইনি উদ্যোগের কথা বলেছেন। তাঁর ইঙ্গিত তৃণমূল কংগ্রেসের ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের দিকে ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। স্পিকার অবশ্য বলেন, ‘‘এটা ওঁর ব্যক্তিগত মত হতে পারে। বিধানসভা ঠিক করবে, কী দেশ-বিরোধী, আর কী নয়। তার পরেই সিদ্ধান্ত হবে।’’ প্রথম দিনই নানা প্রতিষ্ঠান থেকে শুভেচ্ছা জানানো হয় রথীন্দ্রকে। তাদেরই দেওয়া একটি উত্তরীয় গলায় পরে ছিলেন তিনি। তাতে লেখা ছিল, ‘হরে কৃষ্ণ, হরে রাম’। স্পিকারের মতো নিরপেক্ষ আসনে ওই উত্তরীয় গলায় পরলে কি অন্য ধর্মের বিধায়কেরা আঘাত পেতে পারেন? নতুন স্পিকারের কথায়, ‘‘কেউ আঘাত পেলে নিশ্চয়ই খুলে রাখব।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘দেখা করতে একটি সংস্থার তরফে এখনই এটা দিয়ে গিয়েছে।’’

    বিধানসভা চত্বরে এ দিন সরব হয়েছেন প্রাক্তন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ও। স্পিকার নির্বাচনের পরে প্রথম অধিবেশনের বক্তৃতায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, ‘‘বিধানসভা এমন ভাবে চলবে, যাতে বিরোধী দলনেতাকে সাড়ে ১১ মাস সাসপেন্ড করে রাখা না হয়, কোনও বিধায়ককে শারীরিক ভাবে হেনস্থা না করা হয়।’’ মুখ্যমন্ত্রীর ইঙ্গিত ছিল স্পষ্ট। তবে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শুভেন্দুকে ১১ মাস নিলম্বিত রাখা হয়নি বলে দাবি করেছেন বিদায়ী স্পিকার ও বারুইপুর পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক বিমান। তাঁর দাবি, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী ঠিক বলছেন না। ওঁরা নিজেরাই ‘ওয়াক আউট’ করে বেরিয়ে যেতেন!’’ বিরোধী তৃণমূল অবশ্য এ দিনই ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে তরজার মধ্যে সংক্ষিপ্ত ‘ওয়াক আউট’ করেছেন।

    বিধানসভায় এ দিন উপস্থিত নবনির্বাচিত দলীয় বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। প্রাক্তন স্পিকার, বিধায়ক বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বিধানসভায় বিরোধী দলের জন্য বরাদ্দ ঘর নিয়ে কিছুটা টানাপড়েন চলছে। বিরোধী দলনেতা বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে তৃণমূলের তরফে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক চিঠি দিয়েছেন বিধানসভায়। তবে সরকার পক্ষের বক্তব্য, বিধায়কদের সই সংবলিত চিঠি আসার কথা পরিষদীয় দলের তরফে। বিধানসভার সচিবালয় সূত্রের বক্তব্য, বিরোধী দলের ঘরের জিনিসপত্র গুছিয়ে নেওয়া হলে নতুন বিরোধী হিসেবে তৃণমূলের বিধায়কেরা সেই ঘর ব্যবহার করতে পারবেন।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)