ভোট শেষ। রাজ্যে নতুন সরকারও গঠিত হয়ে গিয়েছে। অথচ সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা ভোটে বাদ পড়া ২৭ লক্ষ নাগরিকের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ভোটাধিকার সংক্রান্ত ট্রাইবুনাল গঠন করেছে কলকাতা হাই কোর্ট। কিন্তু সেই ট্রাইবুনালে আবেদন সংক্রান্ত নিষ্পত্তি কবে শেষ হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন আছে মানুষের মনে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ট্রাইবুনালে আবেদন জমা পড়ার পর নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে তা নিষ্পত্তি করার কাজ চলছে। নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া একটি পদ্ধতির মধ্যে আনা হয়েছে। শুনানির আগে আবেদনকারীদের নিয়মমাফিক নোটিসও পাঠানো হচ্ছে।
অনেকেরই অভিযোগ, ভোটের প্রাক্কালে তড়িঘড়ি করে ট্রাইবুনাল তৈরি হয়েছিল। কী ভাবে নিষ্পত্তি হবে, তা নিয়ে স্পষ্ট বার্তা না-থাকায় অনেকেই বিভ্রান্তির মুখে পড়েন। অনেকেই দূরদূরান্ত থেকে সরাসরি হাজির হন কলকাতার উপকণ্ঠে জোকায় অবস্থিত ট্রাইবুনালে। সূত্রের মতে, ভোটের আগে ট্রাইবুনাল কাজ শুরু করলেও প্রক্রিয়া এবং পরিকাঠামোগত কিছু খামতি ছিল। সাধারণত, এ ধরনের কোনও প্রতিষ্ঠান খুব কম সময়ে তৈরি করা যায় না। তাই আপাতত পুরো প্রক্রিয়া ঢেলে সাজানো হয়েছে। তবে ট্রাইবুনালের শীর্ষ পদ থেকে ‘ব্যক্তিগত’ কারণে ইস্তফা দিয়েছেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টি এস শিবগণনম। তাঁর পদে কাকে নিয়োগ করা হবে, সে ব্যাপারে বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি। তবে সূত্রের দাবি, বাকি বিচারপতিরা ট্রাইবুনালে আছেন। তাঁরা নির্দিষ্ট জেলাগুলির আবেদনের শুনানি করছেন। সশরীরে এবং ভার্চুয়াল, দু’ধরনের শুনানি হচ্ছে।
একটি সূত্রের দাবি, অনেকেই সরাসরি আবেদন নিয়ে ট্রাইবুনালে অথবা জেলাশাসক বা মহকুমাশাসকের দফতরে আবেদন জমা দিয়েই ট্রাইবুনালের সামনে হাজির হচ্ছিলেন। তাতে পরিশ্রম এবং বিভ্রান্তি—দুই বাড়ছিল। এখনও পর্যন্ত স্থির হয়েছে, সরাসরি অনলাইনে জমা পড়া এবং জেলা থেকে পাঠানো আবেদন ট্রাইবুনালে এলে আবেদনকারীকে নোটিস পাঠিয়ে নির্দিষ্ট দিনে হাজির হতে বলা হবে এবং সেই মতো হাজিরা দিতে হবে। অনেকেরই নানা কারণে জরুরি ভিত্তিতে শুনানি প্রয়োজন হতে পারে। সেই সমস্যারও যাতে সুরাহা হয়, তার পথও ভাবা হচ্ছে। ট্রাইবুনালে একাধিক মামলার শুনানি করা আইনজীবী ফিরদৌস শামিম বলছেন, ‘‘কলকাতা হাই কোর্ট যে মামলাগুলির জরুরি ভিত্তিতে শুনানি করতে বলেছে সেগুলির জরুরি ভিত্তিতেশুনানি হচ্ছে।’’
জেলা প্রশাসনগুলি জানিয়েছে, আবেদনকারীরা সরাসরি অনলাইনে আবেদন জমা দিতে পারেন। যাঁরা অফলাইনে জমা দিচ্ছেন তাঁদের আবেদন ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের দিয়ে অনলাইনে তুলে ট্রাইবুনালে পাঠানো হচ্ছে। যদিও এত কিছুর পরেও সব কিছুর নিষ্পত্তি কবে হবে, সে ব্যাপারে নির্দিষ্ট উত্তর মিলছে না।
এত লক্ষ মানুষের আবেদনের শুনানি শেষ হতে কত দিন লাগবে, সে ব্যাপারেও প্রশ্ন আছে। সূত্রের দাবি, জেলা স্তরে এর আগে যে যাচাই হয়েছিল (যার দায়িত্বে ছিলেন বিচার বিভাগীয় আধিকারিকেরা) তার থেকে ট্রাইবুনালে তুলনামূলক বেশি সময় লাগবে। কারণ, এ ক্ষেত্রে বিস্তারিত শুনানির শেষে রায় দান করতে হচ্ছে এবং সেই রায় লিখে নির্দেশনামা আকারে প্রকাশ করতে হচ্ছে। তবে ওই সূত্রের দাবি, যত দ্রুত আবেদন নিষ্পত্তি করা যায় তার উপরেই জোরদেওয়া হবে।
এত লক্ষ নাগরিককে ভোটার তালিকার বাইরে রেখে ভোট করানোয় নাগরিক সমাজের অনেকে ক্ষুব্ধ। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের তরফে যথাযথ স্থানে প্রতিবাদের প্রয়োজন বলেও দাবি করেছেন অনেকে। তাঁদের মতে, ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ায় ওই ২৭ লক্ষ মানুষের নাগরিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে।