• আরজি কর কাণ্ডের পরেই রাজের ইস্তফা দেওয়া উচিত ছিল! বোনও ঠিক মন্তব্য করেনি: দেবশ্রী
    আনন্দবাজার | ১৬ মে ২০২৬
  • রাজনীতি ছেড়েছেন রাজ চক্রবর্তী। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হয়ে ব্যারাকপুর কেন্দ্র থেকে ভোটে দাঁড়ান। জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। কিন্তু, জয় আসেনি। পরাজয় স্বীকার করেছেন। ফলপ্রকাশের পরে ক’টা দিন শান্তিতে তাইল্যান্ডে ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন স্ত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে। উপলক্ষ তাঁদের অষ্টম বিবাহবার্ষিকী। কিন্তু তাতেও উড়ে আসে কটাক্ষ। প্রাক্তন বিধায়কের শ্যালিকা দেবশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় জামাইবাবুর হারে দুঃখিত। পাশাপাশি তিনি এ-ও বলেন, ‘‘কলকাতায় আরজি কর কাণ্ড ঘটার পরেই রাজের ইস্তফা দিয়ে দেওয়া উচিত ছিল।’’

    ২০২১ সাল থেকে বিজেপির সমর্থক দেবশ্রী। উত্তরপ্রদেশের নির্বাচনে গিয়ে যোগী আদিত্যনাথের হয়ে প্রচার করে এসেছেন। জামাইবাবু রাজনীতি থেকে অবসর নিতেই কি শ্যালিকা এ বার রাজ্যের শাসকদলের হয়ে ময়দানে নামবেন? বোন শুভশ্রীর সঙ্গে সমীকরণ কেমন তাঁর? আনন্দবাজার ডট কম-কে জানালেন দেবশ্রী।

    ৪ মে, নির্বাচনের ফলপ্রকাশের দিন সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে রাজের সাদা শার্টে ঘুঁটে ছোড়ার ভিডিয়ো। সঙ্গে ‘চোর-চোর’ স্লোগান। সেই ভিডিয়ো দেখেছেন দেবশ্রীও। জামাইবাবুর এমন ভিডিয়ো দেখে কষ্ট পেয়েছেন। খারাপ লেগেছে তাঁর। দেবশ্রীর কথায়, ‘‘আমি স্বচক্ষে দেখেছি, রাজ ব্যারাকপুরের জন্য কতটা খেটেছে। এতটা দূরত্ব। তবু যাতায়াত করে, বাড়ি ফিরে আবার অফিসের কাজ নিয়ে বসত। তবে এ ঘটনা ঘটার পরে ব্যারাকপুরের নবনির্বাচিত বিধায়ক কৌস্তভ বাগচীর সঙ্গে কথা হয়েছিল। কৌস্তভ সেখানে থাকলে, এমন ঘটনা ঘটত না।’’ যদিও এই ঘটনা প্রভাব ফেলেছে রাজের শ্বশুর-শাশুড়ির উপর। দেবশ্রীর কথায়, ‘‘মা-বাবার উপর এই ঘটনা প্রভাব ফেলেছে। তাঁরা রীতিমতো অবসাদে। জামাইকে অসম্ভব ভালবাসে যে।’’ এই ঘটনা থেকে দুই সন্তান ইউভান ও ইয়ালিনীকে দূরে রেখেছেন শুভশ্রী। দেবশ্রীর কথায়, ‘‘আমার বোন খুব কড়া মা। ওদের বাড়িতে খবর দেখার অনুমতি নেই কারও। বাচ্চাদের সামনে তো একেবারেই না। তাই ওরা এ সবের থেকে অনেক দূরে। সেটা একপ্রকার স্বস্তির।’’

    বাড়িতে তৃণমূলের সদ্য প্রাক্তন বিধায়ক জামাইবাবু, এ দিকে শ্যালিকা বিজেপির সমর্থক— মতবিরোধ হওয়ার কথা তো? দেবশ্রী জানান, তেমন কিছুই হয়নি। তাঁর কথায়, ‘‘আমি মনে করি, আমার রাজনৈতিক মতাদর্শ একান্তই আমার। আমি আর বোন রাজনীতি নিয়ে কখনও কথা বলি না। বিজেপির হয়ে ভোটে লড়ার প্রস্তাব ছিল আমার কাছে । ইয়ালিনীর জন্মের এক দিন আগে শুভেন্দুবাবুর হাত ধরে বিজেপিতে যোগদানের প্রস্তাব ছিল। কিন্তু, আমি যোগ দিইনি। কারণ, পরিবার আমার কাছে সবার আগে।’’

    রাজ্যে তৃণমূল সরকারের পতনে খুশি দেবশ্রী। তাঁর কথায়, ‘‘যে রাতে আরজি কর কাণ্ডের বিচার চেয়ে গোটা রাজ্যবাসী আকাশের দিকে তাকিয়েছিল, তার পরে যে ভাবে যা ঘটেছে— তৃণমূলের এই পতন তারই পরিণতি।’’ এই সরকারের অহঙ্কার বেড়েছিল বলে মত দেবশ্রীর। তাঁর কথায় উঠে আসে চাকরি চুরির প্রসঙ্গ। দেবশ্রী বলেন, ‘‘রাজ ও শুভ, দু’জনেই বেশ কিছু ভুল মন্তব্য করে বসে। মা দুর্গার সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তুলনা টানা মোটেই উচিত হয়নি।’’

    যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক বিচক্ষণতাকে প্রশ্ন করতে চান না দেবশ্রী। বরং মমতার মনের জোরকে কুর্নিশ জানান দেবশ্রী। তবে তাঁর মনে কেবলই নরেন্দ্র মোদীর অধিষ্ঠান।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)