নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: গ্যাংটক-শিলিগুড়ি-দিল্লি। এমন রুট ম্যাপ সামনে রেখেই উত্তরবঙ্গে শিল্পের বিকাশ করবে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার। শুক্রবার শিলিগুড়িতে ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্সের (আইসিসি) নর্থবেঙ্গল রিয়েলটি রিইমাজিনড সম্মেলনের পর একথা বলেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা। একই সঙ্গে তিনি ইকো সেনসিটিভ জোন (ইএসজেড) সংক্রান্ত সমস্যা মেটানোর আশ্বাস দিয়েছেন। এনিয়ে উচ্ছ্বসিত উদ্যোগপতিরা। তাঁদের একাংশের বক্তব্য, ওই সমস্যা মিটলে এখানে বিনিয়োগে জোয়ার আসবে। শিলিগুড়ি সহ উত্তরবঙ্গের শিল্পব্যবস্থাকে নতুন আঙ্গিকে সাজিয়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য এদিন শিলিগুড়ির উপকণ্ঠে ইস্টার্ন বাইপাসের একটি হোটেলে এবিষয়ে সম্মেলন করে আইসিসি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ। তিনি বিগত বামফ্রন্ট ও তৃণমূল কংগ্রেস জমানার সমালোচনা করেন। বলেন,সিপিএম ও তৃণমূলের অপশাসনের জেরে অসংখ্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। দীর্ঘ ৫০ বছর পর দূরদৃষ্টিহীন সরকারের কবল থেকে পশ্চিমবঙ্গ মুক্তি পেয়েছে। এখন রাজ্যে বিদ্যুৎগতিতে উন্নয়ন হবে।
এরপরই শিলিগুড়ি সহ উত্তরবঙ্গের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার কাজকর্মের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন বিস্তা। তাঁর সংযোজন, বালাসন থেকে সেভক পর্যন্ত ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের কাজ জোরকদমে চলছে। কালিম্পংয়ে ৭১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক তৈরি হবে। সেভকের কাছে তিস্তায় হবে দ্বিতীয় সেতু। শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিংয়ের সড়ক যোগাযোগের জন্য বিকল্প রাস্তার কথা ভাবা হচ্ছে। সেভক থেকে রংপো পর্যন্ত রেলপথ তৈরির কাজও প্রায় শেষ। বাগডোগরা বিমানবন্দর সম্প্রসারণ ও সংস্কার কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট পরিকাঠামো শিলিগুড়ি সহ উত্তরবঙ্গ ও সিকিমে শিল্পস্থাপনে ব্যাপকভাবে সহায়তা করবে। গ্যাংটক-শিলিগুড়ি-দিল্লি এই রোডম্যাপ সামনে রেখেই শিল্পের বিকাশ হবে। তাই শিল্পক্ষেত্রে সকল অংশীদারদের আহ্বান জানাচ্ছি, প্রধানন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে ‘ডবল ইঞ্জিনের’ সরকারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এখানকার সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করুন।
এদিকে, ইএসজেডের জেরে শিলিগুড়িতে কয়েকশ কোটি টাকার আবাসন প্রকল্প ঝুলছে। এদিনের সভায় বিস্তা বলেন, ইএসজেডের এলাকা নির্ধারণের খসড়া প্রস্তুত হয়েছে। শীঘ্রই সংশ্লিষ্ট সমস্যা মিটবে বলে আশা করছি। উদ্যোগপতিদের একাংশ বলেন, ইএসজেডের এলাকা ৫ থেকে কমে ১ কিমি হলে শিলিগুড়ি সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় বিনিয়োগে গতি আসবে। প্রচুর কর্মসংস্থান হবে।
সম্মেলনে বাস্তু পরামর্শদাতা ডঃ জয় মদন, আর্কিটেক্টস ববি মুখোপাধ্যায়, একটি সংস্থার কার্যনির্বাহী অধিকর্তা যশস্বী শ্রফ, আর একটি সংস্থার কার্যনির্বাহী অধিকর্তা অপূর্ব সালারপুরিয়া, আইসিসির উত্তরবঙ্গের প্রাক্তন চেয়ারম্যান উমঙ্গ মিত্তাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। আইসিসি’র উত্তরবঙ্গের চেয়ারম্যান হর্ষ বেরলিয়া বলেন, পরিকাঠামো ও নগর উন্নয়নে আমূল পরিবর্তন হচ্ছে উত্তরবঙ্গে। যা আবাসন শিল্পে বিপুল সুযোগ সৃষ্টি করছে। আইসিসি’র আবাসন কমিটির চেয়ারম্যান সাহিল চৌধুরী বলেন, এতদিন চা, কাঠ ও পর্যটনের জন্যই পরিচিতি ছিল উত্তরবঙ্গের। বর্তমানে পরিকাঠামো, অতিথেয়তা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বাণিজ্য এবং আবাসন সর্বত্র দ্রুত রূপান্তর হচ্ছে।