• ‘ইস্ট বেঙ্গলের নায়ক হতেই পারে মিগুয়েল’
    বর্তমান | ১৬ মে ২০২৬
  • রবিবার হাই-ভোল্টেজ ডার্বি। খেতাবের ভাগ্য বড়ো ম্যাচের উপরেই নির্ভরশীল। এমনটা দেখা যায় না চট করে। ১৯৯৮ মরশুমে কলকাতা লিগে বড় ডার্বিই ছিল নির্ণায়ক। প্লে-অফে জিতে চ্যাম্পিয়ন হয় ইস্ট বেঙ্গল। আবার ২০০১ মরশুমে পাশার দান উলটে দেয় মোহন বাগান। বর্তমানের পাঠকদের জন্য কলম ধরলেন বাসুদেব মণ্ডল।

    সোনার গোল। তা ছাড়া আর কী! সেদিন রামন বিজয়ন জাল কাঁপাতেই যুবভারতীর রং লাল-হলুদ। বাজির শব্দে কান পাতা দায়। ২৮ বছর আগের কথা। তবে ছবির মতো মনে পড়ে সবকিছুই। যুবভারতীতে ঘরোয়া লিগের প্লে-অফ ম্যাচ। তার উপর ডার্বি। জিতলেই চ্যাম্পিয়ন। অবাক হচ্ছেন? আসলে আইএফএ’র নিয়ম অনুযায়ী সেবার লিগ খেতাবের ফয়সালা হয়েছিল প্লে-অফ ম্যাচে। রামন বিজয়নের গোল্ডেন গোলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ইস্ট বেঙ্গল। রবিবার আরও একটা বড়ো ম্যাচ। জিতলেই আইএসএল খেতাব হাতের মুঠোয়। অস্কার ব্রুজোঁ নিশ্চয়ই এমন সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইবেন না।

    ১৯৯৮ সাল। চিমা, সত্যদা, আর পি সিং সমৃদ্ধ মোহন বাগান বেশ শক্তিশালী। ইস্ট বেঙ্গলও তৈরি। সেবারই ঘানা থেকে চিমার টোটকা হিসাবে মুসা, জ্যাকসন ও ওপোকুকে নিয়ে আসেন স্বপন বল। যুবভারতী প্রায় হাউসফুল। ম্যাচ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে আমার পরিবর্তে সরোজ দাসকে নামানো হয়। যাই হোক, নির্ধারিত সময়ে গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। রামন তখন অনেক জুনিয়র। দীপেন্দুর বদলে মাঠে নেমেছিল। কেরিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গোলটা নিশ্চয়ই মনে আছে রামনের। যাই হোক, ডার্বি মানেই এমন নায়ক হওয়ার হাতছানি। রবিবার বড়ো ম্যাচে একে অন্যকে ছাপিয়ে যেতে চাইবে ফুটবলাররা। এই ম্যাচের পালস আলাদা করে বোঝানোর দরকার নেই। নিজে মিডফিল্ডার হওয়ায় মাঝমাঠের দিকে নজর থাকবে। ইস্ট বেঙ্গলের মিগুয়েল নিঃসন্দেহে জাত ফুটবলার। অসম্ভব ভালো থ্রু পাস বাড়াতে পারে। কিন্তু অহেতুক বল হোল্ড করার প্রবণতা ছাড়তে হবে। আমার ধারণা, আপুইয়া আর অনিরুদ্ধ থাপা পালা করে মার্ক করবে মিগুয়েলকে। বুদ্ধিমান ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার কীভাবে জাল কেটে বেরয় তার উপর অনেককিছু নির্ভরশীল। আমার মনে হয়, এই ডার্বির নায়ক হতে পারে মিগুয়েল। পাশাপাশি মোহন বাগানে ফিডারের অভাব স্পষ্ট। লিস্টন, ম্যাকলারেন ও কামিংসকে আটকাতে ব্রুজোঁ নিশ্চয়ই বিশেষ পরিকল্পনা করবেন।
  • Link to this news (বর্তমান)