• ‘ডার্বিতে অজুহাতের জায়গা নেই’
    বর্তমান | ১৬ মে ২০২৬
  • সন্ধ্যা নামছে। দিনভর গরমের পর শেষ বিকেলের ফুরফুরে হাওয়া ময়দানজুড়ে। বিভিন্ন তাঁবুতে ঘুগনি ও লাল চা সহযোগে আড্ডা জমজমাট। এরইমধ্যে কাস্টমস ক্লাবে এক টেবিলে মুখোমুখি দুই প্রাক্তন। দীর্ঘদিন বড় ক্লাবের কোচের দায়িত্ব সামলেছেন দু’জনেই। একজন মোহনবাগানের আই লিগ জয়ী কোচ। আর অন্যজন তারকা স্ট্রাইকার। বড়ো ম্যাচের ডাগ-আউটে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ররিবার হাই-ভোল্টেজ বড় ম্যাচের আগে আড্ডার মেজাজে দুই বঙ্গসন্তান বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য ও সঞ্জয় সেন। সাক্ষী শিবাজী চক্রবর্তী ও সঞ্জয় সরকার।

    বিশ্বজিৎ: সঞ্জয়, তুমি আমার জুনিয়র। আমি কিন্তু তুই করেই বলছি।
    সঞ্জয়: (হেসে) আরে কোনো সমস্যা নেই।
    বিশ্বজিৎ: অনেকদিন পর দেখা। তুই আসায় ভালোই হয়েছে। সামনেই ডার্বি। আজ একটু ফুটবলের আড্ডা হোক। তবে শুধু মুখে নয়। দাঁড়া একটু ফিশ ফিঙ্গার বলি। জমবে ভালো।
    সঞ্জয়: (আবার হাসি) বিশুদা শিলিগুড়ির ডার্বির কথা মনে আছে? সনি নর্ডির স্টেইনগান সেলিব্রেশন! সেবার কিন্তু মরগ্যানের ইস্টবেঙ্গলকে টেক্কা দিয়েছিলাম।
    বিশ্বজিৎ: আবার ডংয়ের ডার্বিতে একতরফা জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল। আমার কোচিংয়ে লাল-হলুদের অন্যতম সেরা ম্যাচ।
    সঞ্জয়: বাব্বা! ভুলিনি কিছুই। হারের পর বাজারে যেতে পারতাম না। অফিসেও টিপ্পনি। তবে এখনকার বিদেশি কোচেদের সেই হ্যাপা পোহাতে হয় না।
    বিশ্বজিৎ: ভুল বলিসনি। এটা কর্পোরেট ডার্বি। আবেগ কম। দু’দলে বাঙালি ছেলে কোথায়?
    সঞ্জয়: একমত। মোহনবাগানের আই লিগ জয়ী স্কোয়াডে প্রীতম, দেবজিৎ, প্রণয়রা ছিল। বড় ম্যাচের আগে নিজেরাই তেতে থাকত।
    বিশ্বজিৎ: রবিবার প্রায় ফাইনাল। ব্রুজোঁর উচিত ম্যাচে ফোকাস করা।
    সঞ্জয়: মোহনবাগানের খেলা দেখেছি। আহামরি নয়। তবে ডার্বিতে মনবীর, লিস্টন জুটিকে উইংয়ে খেলানো উচিত। রবসন খুব খারাপ রিক্রুট। দিমি স্রেফ অতীতের ছায়া।
    বিশ্বজিৎ: আমারও তাই মত। আপুইয়া ফেরায় ব্যালান্স বাড়বে। তবে তুরুপের তাস ম্যাকলারেনই।
    সঞ্জয়: ম্যাকলারেন ম্যাচ উইনার। এদিকে, চোট সারিয়ে ফেরার পর সিবলেকে স্লো দেখাচ্ছে। পাশাপাশি সাউল নেই। তা বলে কান্নাকাটি করা বৃথা। ডার্বিতে অজুহাতের জায়গা নেই।
    বিশ্বজিৎ: একদম ঠিক বলেছিস। এই ম্যাচ কলজের লড়াই। মিগুয়েলকে কেমন দেখছিস?
    সঞ্জয়: ফাঁকা জায়গা পেলে শেষ করে দেবে। সামনে বল বাড়ানোর ক্ষমতা রয়েছে এই ব্রাজিলিয়ানের। লোবেরা নিশ্চয়ই সেদিকে নজর দেবেন।
    বিশ্বজিৎ: ডার্বি সবসময় ফিফটি-ফিফটি। তবে মানসিকভাবে বেশ চাঙ্গা ইস্টবেঙ্গল। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার এমন গোল্ডেন চান্স কমই আসে।
    সঞ্জয়: জিতলেই খেতাব প্রায় মুঠোয়। আমার ধারণা, যে দল আগে গোল করবে মানসিকভাবে এগিয়ে যাবে অনেকটাই। তবে দুই দলেই স্প্যানিশ কোচ রয়েছেন। বল পজেশান বজায় রাখতে চাইবেন। ব্যক্তিগত মত, লক্ষ্যভেদও জরুরি। গোল না হলে বল পজেশান রাখার গুরুত্ব নেই।
    বিশ্বজিৎ: ব্রুজোঁর কিন্তু চার ব্যাকে দল নামানো উচিত।
    সঞ্জয়: তিন ডিফেন্সে খেলতে হলে ডিফেন্ডারদের গতি থাকা প্রয়োজন। দ্রুত নামা ওঠা করতে হয়। তাছাড়া মনে রাখা দরকার বিশেষ করে বিষ্ণুর দিক থেকে লিস্টন অপারেট করে। বিপদ অনিবার্য। মোহন বাগানের আপফ্রন্ট বেশ শক্তিশালী। তাই রক্ষণের শেপ বজায় না রাখলে অস্কারের চিন্তা বাড়বেই।
    বিশ্বজিৎ: যাই হোক, অনেকদিন পর আলোচনায় ফিরছে ফুটবল। এটা কিন্তু বেশ উপভোগ্য।
    সঞ্জয়: আমার কাছেও টিকিটের আবদার প্রচুর। এটাই ডার্বির মজা। মনে হচ্ছে ম্যাচটা জমে যাবে।
  • Link to this news (বর্তমান)