ভোট পর্ব পার করেও অমলিন ঝালমুড়ি ইস্যু। বাংলার ‘ঝালমুড়ি’র ঝাঁঝ এ বার বিদেশের মাটিতেও। নেদারল্যান্ডসে বাংলার ‘ঝালমুড়ি’র কথা শোনা গেল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মুখে। শনিবার নেদারল্যান্ডসের হেগে প্রবাসী ভারতীয়দের উদ্দেশে ভাষণে ভারতে পাঁচ রাজ্যে সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া বিধানসভা নির্বাচনের উল্লেখ করেন তিনি। সে সময়ে বাংলার নাম উচ্চারণ হতেই উপস্থিত জনতার মধ্যে থেকে কেউ ঝালমুড়ি বলে চেঁচিয়ে ওঠেন। তাতেই হেসে ফেলে প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘ঝালমুড়ি এখানেও পৌঁছে গিয়েছে।’
সম্প্রতি বাংলায় শেষ হয়েছে বিধানসভা নির্বাচন। এই নির্বাচনে অন্যতম হট টপিক ছিল ঝালমুড়ি। নির্বাচনী প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঝালমুড়ি খাওয়াকে কেন্দ্র করে কটাক্ষ ও পাল্টা কটাক্ষে সরগরম হয়ে ওঠে বঙ্গ রাজনীতির ময়দান। ঝাড়গ্রামে প্রচার সেরে ফেরার পথে স্থানীয় একটি মুড়ির দোকানে ঢুকে দশ টাকার ঝালমুড়ি কিনেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। দোকানির সঙ্গে মোদীর কথোপকথন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরালও হয়। বিজেপি নেতা–কর্মীরা সেই ভিডিয়ো শেয়ার করে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেন যে, প্রধানমন্ত্রী কতটা মাটির কাছাকাছি থাকা মানুষ। এর পরেই তৃণমূল কংগ্রেস গোটা ঝালমুড়ি পর্বকে নাটক বলে কটাক্ষ করে। এমনকী, ঝালমুড়ির দোকানটা আসলে শুটিং সেট বলে প্রচার শুরু করে বিরোধীদের একাংশ।
‘ক্যামেরা ফিট করে ঝালমুড়ি খেয়েছেন’ বলে মোদীকে তীব্র খোঁচা দেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পাল্টা জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঝালমুড়ি আমি খেয়েছি, ঝাল লেগেছে তৃণমূলের।’ ঝালমুড়িকে কেন্দ্র করে তরজা শুধু প্রধানমন্ত্রী ও তৎকালীন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, ছড়িয়ে পড়ে বঙ্গ রাজনীতির শাসক-বিরোধীর প্রতিটি স্তরে। এমনকী ভোটে জেতায় আত্মবিশ্বাসী প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, ‘৪ মে বাংলাতেও পদ্ম ফুটবে। মিষ্টি ও ঝালমুড়ি বিলি হবে।’ সেই মতো ফলাফলে গেরুয়া ঝড় তুলে যখন ২০৭ আসন পায় বিজেপি, তখন প্রধানমন্ত্রীর ভবিষ্যৎ বাণী সত্যি করে ঝালমুড়ি বিলি করে চলে সেলিব্রেশন। শুধু তাই নয়, এমনকী বাংলার বিজেপি সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানেও মিষ্টির পাশাপাশি ছিল ঝালমুড়িরও স্টল।
নির্বাচন শেষের পর সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনও বজায় ঝালমুড়ির ঝাঁঝ। তাই দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও লোকের মুখে ঘুরছে ঝালমুড়ি পর্ব। এ দিন হেগে ভারতে নারী ক্ষমতায়ন এবং রেকর্ড ভোটিং পার্সেন্টেজ়ের কথা বলার সময়ে প্রধানমন্ত্রী মুখে উঠে আসে বঙ্গ নির্বাচনের প্রসঙ্গ। তখনই ঝালমুড়ি নিয়ে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। আর তাতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন উপস্থিত প্রবাসীরা। একইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ভোটদানের হার ছিল ৮০–৯০ শতাংশ। যেখানে মহিলাদের অংশগ্রহণের হারও ছিল অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য। প্রতি বছরই ভোটদানের নতুন রেকর্ড তৈরি হচ্ছে।’
এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের ভারত বড় স্বপ্ন দেখতে চায়। অদূর ভবিষ্যতে অলিম্পিক গেমস আয়োজন করতে চায়। আজকের ভারতের আকাঙ্ক্ষা অসীম, এবং সেই কারণেই এটি স্টার্ট-আপ ইকোসিস্টেম ও উদ্যোক্তা হিসেবে অবদান রাখতে চায়।’ তাঁর কথায়, এক দশকেরও বেশি আগে ভারতে মাত্র ৫০০টি স্টার্টআপ ছিল। তবে, ১২ বছরের মধ্যে এই সংখ্যা বেড়ে দুই লক্ষেরও বেশি হয়েছে।
নেদারল্যান্ডসে মোদীর এই সফরটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ঘিরে আলোচনা এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর করার লক্ষ্যেই এই সফর। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, সেমিকন্ডাক্টর, জল ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্ন শক্তি ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে।