• এ বার ‘কাটমানি’র ফাইল খোলা শুরু, ডায়মন্ড হারবার থেকে বড় নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর
    এই সময় | ১৬ মে ২০২৬
  • ‘রাজ্যে আর শাসকের আইন চলবে না, এ বার আইনের শাসন চালু হয়েছে’, এই কথা জানিয়ে পুলিশ ও প্রশাসনকে আইন মেনে কাজ করার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার ডায়মন্ড হারবারে প্রশাসনিক বৈঠকের পরে মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, পুলিশকে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা মেনে কাজ করতে হবে। তিনি স্পষ্ট বলে দেন, কোনও রাজনৈতিক সন্ত্রাস, তোলাবাজি বাংলায় চলবে না। মহিলাদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও কোনও আপস করা হবে না। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, এত দিন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা প্রদানের বদলে কেউ যদি কাটমানি নিয়ে থাকেন, পুলিশ যেন তাঁর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেয়।

    শুভেন্দু অধিকারী জানান, যদি কেন্দ্র ও রাজ্যের কোনও প্রকল্পের সুবিধা পেতে কাউকে কাটমানি দিয়ে থাকেন, সে ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক ডকুমেন্ট নিয়ে থানায় অভিযোগ জানাতে পারেন। এ ক্ষেত্রে অনলাইন টাকা দেওয়ার প্রমাণ বা অ্যাকাউন্ট ট্রান্সফারের নথির প্রমাণ জমা দিতে হবে। নথি পেলে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হবে, এ দিন তা-ও স্পষ্ট জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী।

    একই সঙ্গে শুভেন্দু আশ্বস্ত করেন, যাঁদের হাতে কোনও ডকুমেন্ট নেই, তাঁরাও অভিযোগ করতে পারবেন। তদন্ত করে দেখা হবে। তা প্রমাণ হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, কোনও মিথ্যা অভিযোগ যেন কেউ না করেন। কারণ, মিথ্যা অভিযোগ করলে তাঁর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সে কথাও ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় বলা আছে।

    এ দিন মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, গত পাঁচ বছরে রাজনীতির যে হিংসা হয়েছে, যারা তার শিকার, তথ্যপ্রমাণ দিয়ে অভিযোগ জানান। যাদের কাছে তথ্যপ্রমাণ নেই পুলিশ তদন্ত করে দেখবে অভিযোগ সঠিক কি না। নতুন করে থানাগুলোতে FIR করতে পারেন। রাজনৈতিক হিংসার শিকার, এমনকী পুলিশের দ্বারা অন্যায় ভাবে অত্যাচারিতরাও থানায় অভিযোগ জানান, বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর। সেই অভিযোগ নেওয়া হবে এবং তদন্ত করে দেখা হবে। মহিলারা অত্যাচারিত হলে, তাঁরা নতুন করে অভিযোগ করতে পারেন।

    অটো, টোটো, হকারদের থেকে টাকা তোলার বহু অভিযোগ রয়েছে। শুভেন্দু বলেন, ‘আজ থেকে অটো, টোটো, হকারদের কাছ থেকে কোনও সিন্ডিকেট তোলা তুলবেন না। অবৈধ টোল চলবে না। টাকা চাইতে এলে সোজা থানায় যাবেন। থানা দেখবে সবটা।’

    ডিজিপিকে মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ, মহিলা পুলিশ অফিসার ও মহিলা পুলিশ কনস্টেবলদের ক্ষেত্রে পার্শ্ববর্তী জেলাতে যেন ট্রান্সফার করা হয়। যিনি আলিপুরদুয়ারের, তাঁকে উত্তর দিনাজপুর, শিলিগুড়িতে কাজের সুযোগ দিলে ভালো। তাঁকে যেন পুরুলিয়া, বাঁকুড়ায় এসে কাজ না করতে হয়। ১৫ বছরের বেশি যে মহিলা কনস্টেবলরা কাজ করছেন, তাঁদের জেলায় পোস্টিং দেওয়া যায় কি না, তা নিয়েও ইতিবাচক চিন্তাভাবনার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী এ দিন জানান,পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড ভেঙে দেওয়া হলো।

  • Link to this news (এই সময়)