আজকাল ওয়েবডেস্কঃ ক্যানিংয়ে রাজনৈতিক মহলে ফের তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা তথা ক্যানিং ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি উত্তম দাসের গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার ছড়িয়েছে। তিনি ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক পরেশ রাম দাসের দাদা বলেই পরিচিত। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, ক্যানিং থানার তৎকালীন আইসি সাসপেন্ড হওয়ার পর নতুন আইসি দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই গ্রেফতারি ঘিরে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক চর্চা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার গভীর রাতে ক্যানিংয়ের নিজ বাড়ি থেকেই উত্তম দাসকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের সময় এলাকায় ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। উত্তম দাসের বাড়ির চারপাশ ঘিরে মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী, যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত সরকারি ভাবে অভিযোগের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। কারণ, গত কয়েকদিন ধরেই ক্যানিংয়ে ভোট-পরবর্তী হিংসা ও অশান্তি নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, এলাকায় একাধিক হামলা, ভাঙচুর এবং ভয় দেখানোর ঘটনা ঘটলেও পুলিশ শাসকদল ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিল। অভিযোগের তীর উঠেছিল ক্যানিং থানার তৎকালীন আইসি অমিত কুমার হাতির বিরুদ্ধে।
বিরোধীদের দাবি, ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনায় অভিযুক্ত তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়লেও পুলিশ কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছিল না। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন আগে রাতভর ক্যানিং থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখানো হয়। থানা চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল, নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে।
এরপরই প্রশাসনিক স্তরে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গতকাল ক্যানিং থানার আইসি অমিত কুমার হাতিকে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে খবর সামনে আসে। আর সেই ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন আইসি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পরই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জোরদার অভিযান শুরু হয় বলে জানা গিয়েছে।
রাতের সেই অভিযানেই গ্রেফতার করা হয় তৃণমূল নেতা উত্তম দাসকে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, নতুন আইসির এই পদক্ষেপ প্রশাসনের কড়া বার্তা বহন করছে। বিশেষ করে ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই গ্রেফতারি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।
যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে দলের অন্দরে এই ঘটনাকে ঘিরে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক সূত্রের দাবি। অন্যদিকে, বিরোধীরা এই ঘটনাকে “আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার সূচনা” বলে দাবি করেছে।
এখন রাজনৈতিক মহলের নজর, উত্তম দাসের বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ সামনে আসে এবং এই গ্রেফতারির জেরে ক্যানিংয়ের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন কোনো পরিবর্তন দেখা যায় কি না। ক্যানিং জুড়ে আপাতত এই ঘটনাই চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।