মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করলেন তৃণমূল বিধায়ক, তারপর?
আজকাল | ১৬ মে ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: ডায়মন্ড হারবারে প্রশাসনিক বৈঠকের মধ্যেই রাজনৈতিক সৌজন্যের এক উল্লেখযোগ্য ছবি সামনে এল। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ডায়মন্ড হারবার বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক পান্নালাল হালদার। শনিবার ডায়মন্ড হারবারের সাগরিকা টুরিস্ট লজে প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে আসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই সময় তাঁকে স্বাগত জানাতে হাজির হন তৃণমূল বিধায়ক পান্নালাল হালদার।
রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হলেও প্রশাসনিক স্বার্থে এবং এলাকার উন্নয়নের লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এই সাক্ষাৎ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। সাগরিকা টুরিস্ট লজে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকের আগে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন পান্নালাল হালদার। বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আমন্ত্রণেই তিনি সেখানে উপস্থিত হয়েছেন।
পান্নালাল হালদার বলেন, “আমাকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তাই আমি এখানে এসেছি। এলাকার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করব। বিশেষ করে ভোট পরবর্তী হিংসা এবং ডায়মন্ড হারবারের সার্বিক উন্নয়নের বিষয় মুখ্যমন্ত্রীর নজরে আনব। এলাকার সমস্যাগুলি লিখিত আকারে মুখ্যমন্ত্রীকে জানাব।”
তিনি আরও জানান, রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে এলাকার মানুষের স্বার্থে কাজ করাই তাঁর মূল লক্ষ্য। উন্নয়নের স্বার্থে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করতে চান বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। পান্নালাল হালদারের কথায়, “ডায়মন্ড হারবারের মানুষের স্বার্থে যা যা প্রয়োজন, আমি তা মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরব। এলাকার উন্নয়ন যেন আরও দ্রুত হয়, সেই বিষয়েও আলোচনা হবে।”
একই সঙ্গে অতীতের একটি ঘটনার কথাও স্মরণ করেন তৃণমূল বিধায়ক। তিনি বলেন, “যখন মমতা ব্যানার্জি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন এবং ডায়মন্ড হারবারে প্রশাসনিক বৈঠক করতে এসেছিলেন, তখন আমি ডায়মন্ড হারবার পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলাম। তখনও আমি তাঁর সঙ্গে দেখা করেছিলাম। প্রশাসনিক সৌজন্য বজায় রেখেই আমি আজও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে এসেছি।”
যদিও এই সাক্ষাৎকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। বিরোধী ও শাসক শিবিরের রাজনৈতিক সমীকরণের মাঝে এই সাক্ষাৎ নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে পান্নালাল হালদার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই সাক্ষাতের মূল উদ্দেশ্য রাজনৈতিক নয়, বরং এলাকার উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের সমস্যা তুলে ধরা।