• 'পুলিশের গায়ে হাত তুললে রেয়াত নয়', আসানসোল-কাণ্ডে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর, পাকড়াও ১৫
    আজ তক | ১৬ মে ২০২৬
  • আসানসোলে পুলিশ স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনায় কাউকে রেয়াত করা হবে না। হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ঘটনায় ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। শুক্রবার রাতে ধর্মীয় স্থানে লাউডস্পিকার বাজানোকে কেন্দ্র করে দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট জাহাঙ্গির মহল্লায় উন্মত্ত জনতা ও পুলিশের খণ্ডযুদ্ধ বেঁধে যায়। থানায় ভাঙচুর করে একদল উন্মত্ত জনতা। এই ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান শুভেন্দু। 

    শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, "আসানসোলের ঘটনায় ১৫ জন গ্রেফতার। যারা থানা ভেঙেছে তাদের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সেইসঙ্গে সরকারি অফিসে যে ভাঙচুর করা হয়েছে তা তাদের থেকে উসুল করা হবে। পুলিশের গায়ে হাত তুললে আমরা ছাড়ব না। কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

    শুক্রবার উত্তেজিত জনতা ভাঙচুর চালালে তারপর লাঠিচার্জ শুরু করে পুলিশ। ঘটনার পর প্রচুর সংখ্যায় পুলিশ বাহিনী এলাকায় মোতায়েন করা হয়। কারা ভাঙচুর চালালো তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়ে গিয়েছে।  

    ঠিক কী ঘটেছিল?
    পশ্চিমবঙ্গ সরকার মন্দির, মসজিদ সহ যে কোনও ধর্মীয় স্থানে লাউডস্পিকার বাজানো নিয়ে নয়া নিয়ম এনেছে। সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, ধর্মীয় স্থানে এভাবে লাউড স্পিকার লাগাতে হবে, যাতে আশপাশের এলাকায় সমস্যা না হয়। শব্দদূষণ না ছড়ায়। সকলকেই এই নিয়ম মানতে বলছে পুলিশ ও প্রশাসন। 

    আর এই নতুন নিয়ম বাস্তবায়িত করতেই একাধিক ধর্মীয় স্থানে গিয়েছে আসানসোল উত্তর পুলিশ থানার অফিসাররা। এই কাজ করতে তাঁরা জাহাঙ্গির মহল্লাতেও পৌঁছে যায়। তাঁরা মসজিদ এবং মন্দিরের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের নতুন নিয়মের কথা জানায়। এই পরিস্থিতিতে কিছু স্থানীয় বাসিন্দা প্রতিবাদ শুরু করেন। তারপর দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হয়ে যায় কথা কাটাকাটি। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে যায়। 

    প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এরপর জাহাঙ্গির মহল্লার পুলিশ স্টেশনের বাইরে প্রচুর সংখ্যায় স্থানীয় মানুষ জড়ো হয়। তারপরই পুলিশ স্টেশনে পাথর ছুড়তে শুরু করে তারা। এমন সময় পুলিশ স্টেশনের জানলা এবং অন্যান্য সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 

    পরিস্থিতি হাত থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে দেখে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী দেখা যায়। ব়্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সও পৌঁছে যায়। এরপর পুলিশ ওই অঞ্চলে ফ্ল্যাগ মার্চ শুরু করে। তারপরই ধীরে ধীরে শান্ত হয়। উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এলাকার নিরাপত্তা বাড়ানো হয়।
  • Link to this news (আজ তক)