• স্কুটিতে চেপে বাড়ি ফিরলেন পদ্ম বিধায়ক শঙ্কর, উত্তরবঙ্গের বঞ্চনা নিয়ে বিধানসভায় সুর চড়ানোর বার্তা
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ১৬ মে ২০২৬
  • বিধায়ক হিসেবে শপথ নেওয়ার পর শনিবার কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি ফিরেছেন শঙ্কর ঘোষ। শিলিগুড়িতে ফিরেই নিজের চেনা মেজাজে ধরা দিলেন শিলিগুড়ির পদ্ম বিধায়ক। নিউ জলপাইগুড়ি (এনজেপি) স্টেশনে ট্রেন থেকে নামার পর কোনও বিলাসবহুল গাড়ি নয়, বরং নিজের অতি পরিচিত স্কুটি চালিয়েই বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। শপথের পরও তাঁর এই চিরপরিচিত সহজ-সরল এবং ‘ভিআইপি সংস্কৃতি’ মুক্ত জীবনযাত্রা নজর কেড়েছে শহরবাসীর।

    এদিন সকালে এনজেপি স্টেশনে বিধায়ক পৌঁছতেই কর্মী-সমর্থকেরা তাঁকে ফুলের মালা ও উত্তরীয় (খাদা) পরিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এদিন শিলিগুড়ি শহরকে তিনি বিভূতিভূষণের বিখ্যাত উপন্যাস ‘চাঁদের পাহাড়’-এর সঙ্গে তুলনা করেন। তবে শুধু আবেগ নয়, এদিন শিলিগুড়িতে ফিরেই শহরের আইনশৃঙ্খলা এবং বিগত আমলের ‘দুর্নীতি’ নিয়ে অত্যন্ত কড়া ও তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দেন বিধায়ক।

    সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘কলকাতার বিধানসভায় শপথ গ্রহণ করাটা একটা সাংবিধানিক প্রক্রিয়া মাত্র। কিন্তু আমার আসল কাজের জায়গা হল শিলিগুড়ির রাজপথ আর এই শহরের মানুষের ড্রয়িংরুম। গত তিন বছর ধরে আমি যেভাবে সাধারণ মানুষের মাঝে থেকে স্কুটি চালিয়ে কাজ করেছি, আগামী দিনেও তার কোনও ব্যতিক্রম হবে না। এই সহজ জীবনযাত্রার মধ্যেই আমি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি, এর মধ্যে কোনও লোক দেখানো ব্যাপার নেই।‘

    তিনি এর সঙ্গে আরও যোগ করেন, ‘শিলিগুড়ি আমার কাছে চাঁদের পাহাড়ের মতো। এই শহর আমার কাছে অভিভাবক। সবার অভিভাবকত্বেই বড় হয়েছি। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, নাটক, খেলাধুলা— এক কথায় বড় হয়ে ওঠা সবটাই এই শহরকে নিয়ে। এই শহরের মানুষের ভোট আমার কাছে আশীর্বাদ। ক’টা দিন শহরের বাইরে ছিলাম, শহরকে প্রতি মুহূর্তে মিস করেছি।‘

    তবে কেবল আবেগের বার্তা দিয়েই থেমে থাকেননি শঙ্কর ঘোষ। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে দলীয় কার্যকর্তা ও প্রশাসনের উদ্দেশে কড়া বার্তা দেন তিনি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, উত্তরবঙ্গের মানুষ যে বিপুল প্রত্যাশা নিয়ে বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন, তার মর্যাদা রক্ষা করতে তিনি দায়বদ্ধ। শিলিগুড়ি তথা সমগ্র উত্তরবঙ্গের বঞ্চনা, অনুন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের ক্ষোভের কথা বিধানসভার ভিতরে এবং বাইরে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে বলে জানান তিনি।

    আরজি কর এবং ‘অভয়া’ প্রসঙ্গ নিয়ে শঙ্কর বলেন, ‘ধর্মের কল বাতাসে নড়ে।‘ যাঁরা এই ধরনের কাজে প্রশাসনের জামা পরানোর চেষ্টা করেছিল, তাদের রেয়াত করা হবে না তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন। নতুন সরকার সবে শপথ নিয়েছে, তাই শুধু অভয়া নয়, সেই সময়ের প্রত্যেকটি কেস খতিয়ে দেখা হবে এবং বিজেপির সংকল্প অনুযায়ী মানুষের সব প্রত্যাশা পূরণ করা হবে।

    বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘উত্তরবঙ্গের মানুষের অধিকার আদায়ের স্বার্থে আমরা রাজপথে নেমে লড়াই করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করব না।‘ শপথ গ্রহণের পর বহু নেতারই ভাবমূর্তি বদলে যেতে দেখা যায় রাজনীতির ময়দানে। তবে তিনি যে তাঁর সেই পুরনো ‘মাটির মানুষ’ ভাবমূর্তি বজায় রেখেই আগামী দিনে চলবেন, এদিন স্কুটিতে চেপে বাড়ি ফেরার দৃশ্যেই তা আরও একবার প্রমাণিত হল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)