• পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড ভাঙল রাজ্য, আইনশৃঙ্খলাকে রাজনীতি মুক্ত করতে বড় পদক্ষেপ শুভেন্দুর
    প্রতিদিন | ১৬ মে ২০২৬
  • “আগে শাসকের শাসন ছিল। এখন আইনের শাসন আছে।” ডায়মন্ড হারবার থেকে এই বার্তাই দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা, পুলিশ-প্রশাসনকে রাজনীতি মুক্ত করতে ভেঙে দেওয়া হল পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড। শনিবার দুপুরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার থেকে বড় ঘোষণা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বাম ও তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে রাজ্যে পুলিশ শাসকদলের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়েছে বলে অভিযোগ। এবার সেই রাজনীতির ছত্রছায়া থেকে পুলিশ-প্রশাসনকে মুক্ত করতে চায় নবান্ন। 

    বাম আমলে পুলিশ-প্রশাসনকে রাজনীতিতে ব্যবহার করা হত বলে অভিযোগ। বিরোধীদের অভিযোগকে পুলিশ গুরুত্ব দিত না! গ্রামেগঞ্জে বিরোধীদের মুখবন্ধ করতে, শাসকদলকে সুবিধা পাইয়ে দিতে পুলিশ কাজ করত বলে বিভিন্ন সময় অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূল আমলেও সেই একই পদ্ধতি চলেছে! বলা ভালো আরও বেশি মাত্রায় শাসকদল পুলিশকে ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ। বিরোধীরা শাসকদলের বিরুদ্ধে থানায় গেলে অভিযোগ নেওয়া হত না! শুধু তাই নয়, শাসকদলের হয়ে কাজ করার জন্য বিরোধীদের মিথ্যা অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হত! 

    রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। বিজেপি ক্ষমতায় এসে খোলনলচে বদলের ভাবনা করছে। পুলিশ-প্রশাসনকে রাজনৈতিক চ্ছত্রছায়া থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করতে বদ্ধপরিকর নবান্ন। সেজন্য পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড ভেঙে ফেলা হল। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রথম প্রশাসনিক বৈঠক করলেন শুভেন্দু অধিকারী। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক ও ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার ও অন্যান্য আধিকারিকের সঙ্গে বৈঠক করেন। সঙ্গে ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল। সেই বৈঠকের পরই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী এই বড় ঘোষণা করলেন।

    কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি প্রকল্পে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে কড়া মুখ্যমন্ত্রী। অভিযোগ উঠলেই কড়া ব্যবস্থার নির্দেশ। এছাড়াও ভোট পরবর্তী হিংসা। নারী নির্যাতন। পুলিশের বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর। প্রসঙ্গত, এই মুহূর্তে ইডি হেফাজতে কলকাতা পুলিশের ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করেছে ইডি। ইডির অভিযোগ, প্রোমোটার, অপরাধী ও পুলিশের এক ত্রিমুখী সিন্ডিকেট চলত তাঁর ছত্রছায়ায়। ইডির দাবি অনুযায়ী, কোনও বাড়ি তৈরির কাজ শুরু হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় পৌঁছে যেত কাউন্সিলরদের লোকজন। প্রোমোটারদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পর নির্দিষ্ট সিন্ডিকেট থেকেই নির্মাণ সামগ্রী কিনতে বাধ্য করা হত। কেউ সেই নির্দেশ না মানলে গুনতে হত মোটা অঙ্কের জরিমানা। তদন্তকারী সংস্থা আদালতে জানিয়েছে, এই গোটা চক্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন ধৃত ডিসিপি শান্তনু। তৃণমূল আমলে শাসকদলের চ্ছত্রছায়াতে থাকার কারণেই তাঁর এত বাড়বাড়ন্ত বলেও অভিযোগ। 

    শুধু তাই নয়, আর জি কর কাণ্ড কলকাতা পুলিশ আড়াল করতে চেয়েছে বলে অভিযোগ। শাসকদলের লোকজনকে আড়াল করার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ। বিজেপি সরকারে আসার পর ফের আর কি কর কাণ্ডের ফাইল খোলা হয়েছে। কলকাতার প্রাক্তন নগরপাল বিনীত গোয়েল, তৎকালীন ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং সেই সময়কার ডিসি নর্থ অভিষেক গুপ্তাকে সাসপেন্ড করা হল। ‘পুলিশের ভূমিকাকে স্বচ্ছ্ব করার লক্ষ্যেই রাজনীতির চ্ছত্রছায়া থেকে মুক্ত করতে বদ্ধপরিকর বিজেপি সরকার। সেজন্য এই পদক্ষেপ বলে মনে করছে ওয়াকবহাল মহল।

     
  • Link to this news (প্রতিদিন)