ছাব্বিশের ভোটে পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী তথা এশিয়াডে সোনাজয়ী অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মনের বাড়িতে অগ্নিকাণ্ড। শুক্রবার রাতের অন্ধকারে রাজগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থীর বাড়িতে আগুন লাগার ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য তৈরি হয় এলাকায়। এর নেপথ্যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন স্বপ্না বর্মন। সংবাদমাধ্যমে নিরাপত্তা প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে স্বপ্না বলেন, “নতুন সরকারের উপর সম্পূর্ণ আস্থা আছে। কেউ নিরাপত্তা দিক বা না দিক, আমি একজন নারী হিসেবে সরকারের কাছে নিরাপত্তা চাইছি।”
এরপরই স্বপ্না বর্মনকে প্রশ্ন করা হয় দলীয় নিরাপত্তা প্রসঙ্গে। ঠিক মুহুর্তেই থমকে যায় তাঁর কথা। উত্তরের বদলে প্রকাশ পায় দীর্ঘশ্বাস। মাথা নীচু করে খানিকটা হতাশার সুরেই অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মন বলেন, “বর্তমানে দলের কথা কিছু বলতে চাইছি না। এখন আমার ও আমার পরিবারের নিরাপত্তা প্রয়োজন সবার আগে।”
জানা যায়, জলপাইগুড়ির পাতকাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘোষপাড়ায় দুটি বাড়ি রয়েছে স্বপ্নার। একটিতে পরিবার নিয়ে থাকেন স্বপ্না বর্মন। অন্যটিতে কেউ থাকতেন না। শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ ওই পুরনো বাড়িটিতে আগুন লাগার খবর সামনে আসে। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে স্বপ্না বাড়িতে আগুন লাগার খবর পোস্ট করতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ও দমকল কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। শুক্রবারই স্বপ্না অভিযোগ করেন, তিনি ভোটে হেরে যাওয়ার পর থেকেই তাঁর দুই দাদাকে ক্রমাগত হুমকি দেওয়া হতো। এমনকী তাঁকেও মাঝমাঝে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার রাতে সংবাদমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে কাঁদো কাঁদো গলায় তাঁর আক্ষেপ করেছিলেন, “রাজনীতিতে আসাই ভুল ছিল।” অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর থেকে পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি স্বপ্নার। শনিবার কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন স্বপ্না। পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি বর্তমান সরকারের কাছেও নিরাপত্তার দাবি জানান। তবে দলীয় প্রসঙ্গে স্বপ্না মুখ খুলে কিছু বলতে না চাইলেও হাবেভাবে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, ঘাসফুলশিবিরে অ্যাথলিটের দৌড় দীর্ঘমেয়াদি নয়। এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
এদিকে স্বপ্না বর্মনের বাড়িতে অগ্নি সংযোগের ঘটনায় ‘বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের’ বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোশাল মাধ্যমে অভিষেক লেখেন, ‘ভারত তোমাকে রক্ষা করতে ব্যর্থ।’ বিজেপি-কে কাঠগড়ায় তুলে অভিষেকের প্রশ্ন, “বিজেপির নজরদারিতে এটাই কি আজকের কঠিন বাস্তবতা? এই পরিবর্তনের কথাই কি দিয়েছিল? বিজেপি সরকারকে এর জবাব দিতে হবে।”