সিলেবাস থেকে বাদ সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম! মোগল আমলের ‘বিকৃত ইতিহাস’ বাতিলের দাবি সজলের
প্রতিদিন | ১৬ মে ২০২৬
স্কুলের পাঠ্যক্রম থেকে সিঙ্গুর আন্দোলনের কথা কি এবার বাদ পড়তে চলেছে? রাজ্যে পালাবদলে বিজেপি সরকার গঠনের পর সেই বিষয় আরও জোড়ালো হচ্ছে। এই বিষয়কে আরও উস্কে দিলেন বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ (Sajal Ghosh)। শুধু তাই নয়, ইতিহাসের পাঠ্যক্রমে মোগল যুগের অংশ বাদ দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন বরানগরের বিধায়ক। এই নিয়ে শুরু হয়েছে গুঞ্জন।
পশ্চিমবঙ্গে এবারের নির্বাচনে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে প্রথমবারের জন্য বাংলায় ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। তৃণমূল কার্যত পর্যূদস্ত হয়েছে। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ভবানীপুরের ১৫ হাজার ভোটে হেরেছেন। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন শুভেন্দু। এই মুহূর্তে তাঁর হাতেই রয়েছে রাজ্যের শিক্ষা দপ্তর। তৃণমূল সরকারের একাধিক নিয়ম বদলে ফেলা হচ্ছে। নবান্ন থেকে একাধিক নির্দেশিকা ইতিমধ্যে জারিও হতে শুরু করেছে। সেই আবহে এবার স্কুলের পাঠ্যক্রম বদলের সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে। এই বিষয়ে একাধিক বদল হতে পারে সেই জোরাল ভাবনাচিন্তা হচ্ছে বলে খবর।
তৃণমূল জমানায় সিঙ্গুর আন্দোলনের কথা স্কুলের পাঠ্যক্রমে যোগ করা হয়েছিল। তৃণমূল কংগ্রেস সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছিল ২০১১ সালে। সিঙ্গুর থেকে কারখানা না করেই চলে গিয়েছিল টাটারা। রাজ্যের শিল্পায়ন কয়েক দশক পিছিয়ে গিয়েছিল ওই ঘটনার জন্য, এমনই বক্তব্য উঠেছিল রাজনীতির বিরোধী শিবির থেকে। সেই সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের ইতিহাস পরবর্তীকালে বাংলার ইতিহাসের পাঠ্যক্রমে যোগ করা হয়েছিল। অষ্টম শ্রেণিতে সেই চ্যাপ্টার পড়ানো হত। সিঙ্গুরের জমিতে বীজ ছড়াচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই ছবিও বইয়ের পাতায় আছে। সেইসময়ও এই বিষয়ে শুরু হয়েছিল জোর চর্চা। তৃণমূল আমলে চাকরি বিক্রির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন সেইসময়ের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। গ্রেপ্তার হলেও তাঁর নামও পাঠ্যক্রমে দেখা যায়। কীভাবে একজন গ্রেপ্তার হওয়া মন্ত্রীর নাম পাঠ্যক্রমে রয়েছে? সেই প্রশ্নও উঠেছিল।
এবার পালাবদলের পর সেসব সিলেবাস থেকে বাদ যাচ্ছে। সেই ইঙ্গিত জোরাল হয়েছে। স্কুলের পাঠ্যক্রমে বড়সড় বদল হতে চলেছে বলে ভাবনাচিন্তা চলছে বলে খবর। এদিন সেই বিষয়েই বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ পাঠ্যক্রম থেকে সিঙ্গুর আন্দোলন বাদ দেওয়ার জন্য জোরাল সওয়াল করেছেন। শুধু তাই নয়, মোগল আমলের ইতিহাস ‘বিকৃত’। সেইসবও ইতিহাসের বইয়ের পাতা থেকে সরানোর দাবি তুলেছেন। বিভিন্ন জায়গা থেকে এই দাবি উঠেছে বলেও বিজেপি বিধায়ক জানিয়েছেন। অন্দরের খবর, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরই ‘বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতি’ ও ‘নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতি’ সিঙ্গুর অধ্যায় বাদ দেওয়ার দাবি তুলেছে। সিলেবাস বদল বিষয়ে মন্তব্য করেছেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দেবাশিস দাস। তিনি জানিয়েছেন, সরকার পড়ুয়াদের জন্য যথাযথ সিলেবাস তৈরি করতে চাইলে স্বাগত।