মোটা টাকার চাকরির টোপ দিয়ে প্রথমে বিদেশে পাঠানো হয়। তার পরে চালান করে দেওয়া হয় অপরাধের চোরাগলিতে। জোর করে বাধ্য করা হয় সাইবার প্রতারণার কাজ করতে। তার জন্য মোটা মাইনে তো দূরের ব্যাপার, কথামতো না চললে জোটে অকথ্য অত্যাচার! সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা সেই ‘সাইবার ক্রীতদাস’ চক্র দমনে এ বার এক প্রাক্তন মার্চেন্ট নেভি অফিসারকে গ্রেপ্তার করল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, নাগেশ কুমার নামে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিই চক্রের চাঁই। বহু ভারতীয়কেই চাকরির লোভ দেখিয়ে কম্বোডিয়া এবং থাইল্যান্ডের মতো দেশে পাচার করে দিয়েছেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে খবর, একাধিক অভিযোগের তদন্তে নেমে আগ্রার সাইবার সেল একটি তদন্ত শুরু করে। নানা জায়গায় তল্লাশি অভিযানও চালানো হয়। হিমাচল প্রদেশের পালামপুরে সেই রকমই একটি অভিযানে গ্রেপ্তার হন নাগেশ। অতীতেও এই চক্রের বেশ কয়েক জন ধরা পড়েছেন পুলিশের জালে। তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, তদন্তে চিনের যোগও মিলেছে। ধৃতদের কাছ থেকে যে সব মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়েছে, তা পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, ধৃতদের সঙ্গে একাধিক চিনা নাগরিকের যোগাযোগ ছিল।
সাইবার বিশেষজ্ঞদের মত, সাইবার দাসত্ব সবচেয়ে বেশি চলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। কম্বোডিয়া, মায়ানমার, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড বা লাওসের মতো দেশগুলিতে একটি চিনা সাইবার প্রতারণা চক্র সক্রিয়। প্রচুর ভারতীয় তরুণ-তরুণী ‘ভিজ়িটর্স ভিসা’য় এই দেশগুলিতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন। অভিবাসন ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের মে মাসের মধ্যে ২৯,৪৬৬ জন ভারতীয় নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, মায়ানমার এবং কম্বোডিয়ায়। তাঁদের অর্ধেকের বয়স ২০-৩৯ বছরের মধ্যে। তাঁদের এক-তৃতীয়াংশ পাঞ্জাব, মহারাষ্ট্র এবং তামিলনাড়ুর বাসিন্দা। ওই ৩০ হাজারের ৭০ শতাংশই নিখোঁজ হয়েছেন থাইল্যান্ডে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, তাঁদের বেশির ভাগই সাইবার দাসত্বের শিকার।