‘জিহাদি ড্রাগ’ নামে পরিচিত ক্যাপ্টাগন ট্যাবলেট বাজেয়াপ্ত করল নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি)। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah শনিবার জানিয়েছেন, ‘Operation Regepill’-এর আওতায় প্রায় ১৮২ কোটি টাকার এই মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। এই প্রথম এই ধরনের ড্রাগ বাজেয়াপ্ত হলো।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই অভিযানে এক বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার একটি দেশে এই ড্র্যাগ পাঠানো হচ্ছিল বলে খবর। এক্স -এ পোস্ট করে অমিত শাহ বলেন, ‘মাদকমুক্ত ভারত গড়তে মোদী সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অপারেশন রেজিপিলের মাধ্যমে প্রথমবার ক্যাপ্টাগন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যা তথাকথিত ‘জিহাদি ড্রাগ’ নামে পরিচিত।’ শাহ জানান, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে চলবে।
ক্যাপ্টাগন মূলত এক ধরনের উত্তেজক মাদক। এটি মূলত দীর্ঘ সময় জেগে থাকা ও শারীরিক ক্লান্তি কমানোর জন্য ব্যবহার করা হয়।
একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বহুকাল আগে ওষুধ হিসেবে এটি। ওষুধটি মূলত ১৯৬০-এর দশকে এডিএইচডি (ADHD) এবং নারকোলেপসির মতো মনোযোগ-সংক্রান্ত ব্যাধির চিকিৎসার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। পরে এই ওষুধ থেকে আসক্তি তৈরি হওয়ায় ১৯৮০-এর দশকের মধ্যে ওষুধটির মূল ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্করণ আন্তর্জাতিক ভাবে নিষিদ্ধ করা হয়।
গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন জায়গায় সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে এই ড্রাগের বহুল ব্যবহার হয়েছে। বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হতো এই ড্রাগ। এই ড্রাগের জন্য গোপন ল্যাব, হাওয়ালার মাধ্যমে টাকা পাচার, বাণিজ্যের জাল নথি, সামুদ্রিক পাচার-সহ একাধিক অবৈধ কার্যকলাপ যুক্ত রয়েছে। অবৈধ ক্যাপটাগন উৎপাদনের প্রধান কেন্দ্র ছিল সিরিয়া। মূলত তুলনামূলক ভাবে কম উৎপাদন খরচ এবং অত্যন্ত উচ্চ অবৈধ চাহিদার জন্য এই ড্রাগের রমরমা বাড়তে থাকে। ISIS-এর মতো জঙ্গিগোষ্ঠীগুলিতে এই ড্রাগের ব্যবহারের কারণে এটিকে হামেশাই ‘জিহাদি ড্রাগ’ বলে হয়ে থাকে।
সম্প্রতি গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দর এবং দিল্লির নেব সরাই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ এই ড্রাগ উদ্ধার করেছে। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্র যোগ রয়েছে কি না সে ব্যাপারে তদন্ত করছে এনসিবি।