আগামী ২১ মে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় পুনর্নির্বাচন হতে চলেছে। তার প্রচারে গিয়ে সেই বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পন্ডাকে এক লাখ ভোটে জেতানোর আহ্বান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই সঙ্গে তোপ দাগলেন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধেও। যিনি রাজ্য-রাজনীতিতে এখন ‘পুষ্পা’ নামেই সমধিক পরিচিত। তাঁকে কটাক্ষ করে শুভেন্দু বলেন, ‘কোথায় ওই ডাকাতটা? পুষ্পা না কী যেন নাম!’ মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, ‘ওর ব্যবস্থা আমি করব। সেই দায়িত্ব আমার উপর ছেড়ে দিন।’
বিধানসভা ভোটের সময়ে প্রচারে আলোয় উঠে এসেছিলেন ফলতার তৃণমূল প্রার্থী। উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মা তাঁর বাড়ি গিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে আসার পরেই প্রকাশ্যে এসে জাহাঙ্গির বলেছিলেন, ওই পুলিশ আধিকারিক ‘সিংহম’ হলে তিনিও ‘পুষ্পা’! বলেছিলেন, ‘ঝুঁকেগা নেহি!’ এ সব নিয়ে দু’জনের ‘ঠান্ডা লড়াই’ও চলে। পরে অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচনই বাতিল হয়ে যায় ফলতায়। সেখানে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। তার পর জল অনেক দূর গড়িয়েছে। রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। তৃণমূল সরকারের পতন ঘটিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। ঘটনাচক্রে, তার পরেই দিন দশেকের জন্য অন্তরালে চলে গিয়েছিলেন জাহাঙ্গির।
মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথম ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ফলতায় নির্বাচনী গিয়ে সেই জাহাঙ্গিরকেই নিশানা করেছেন শুভেন্দু। বলেছেন, ‘গুন্ডামি করতে দেব না। নিশ্চিন্ত থাকুন। সাদা থান বাড়িতে ফেলতে দেখব না। কোথায় পুষ্পা, কোথায় আপনি? দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। ২০২১ সালে ভোট-পরবর্তী হিংসায় ১৯ জনকে নটোরিয়াস ক্রিমিনাল ঘোষণা করেছিল মানবাধিকার কমিশন। তার মধ্যে জাহাঙ্গিরও ছিল।’ বেশ কয়েক দিন লোকচক্ষুর আড়ালে থাকার পর শুক্রবার প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছে জাহাঙ্গিরকে। সম্প্রতি পুলিশের হস্তক্ষেপে বেলসিংহে নিজের বাড়িতে ফিরেছেন তিনি। পরে বন্ধ হওয়া দলীয় কার্যালয় খুলে তিনি আবার বলেছেন, ‘ঝুঁকেগা নহি’।
শুধু জাহাঙ্গিরই নয়, নাম না করে শনিবার ফলতায় মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় ছিলেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি, যাঁদের নির্দেশে ফলতার মানুষের উপর অত্যাচার হয়েছে, তাঁদের সকলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে। কল রেকর্ডস, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট সব খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু বলেন, ‘আমরা বলি না, চার তারিখের পরে ডিজে বাজবে। আমাদের রাজ্য সভাপতি বলেন, অভিনন্দন যাত্রা করুন। অনিচ্ছুকের গায়ে আবির দেবেন না। এটাই বিজেপি।’ প্রচারে ফলতার জন্য স্পেশাল ডেভেলপমমেন্ট প্যাকেজেরও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।