• সরস্বতী মন্দিরের দাবিতে সিলমোহর আদালতের, শনিতে ভোজশালায় প্রার্থনার জন্য ভিড় ভক্তদের
    এই সময় | ১৭ মে ২০২৬
  • মধ্যপ্রদেশের ধার জেলার বহু বিতর্কিত ‘ভোজশালা মন্দির কামাল মওলা কমপ্লেক্স’ নিয়ে শুক্রবার ঐতিহাসিক রায় দেয় মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। আদালত জানিয়েছে, ভোজশালা মূলত দেবী সরস্বতী বা বাগদেবীর মন্দির এবং সংস্কৃত শিক্ষার কেন্দ্র ছিল। একইসঙ্গে আদালত ২০০৩ সালের Archaeological Survey of India (ASI)-র সেই নির্দেশও বাতিল করেছে, যেখানে মুসলিমদের শুক্রবার নমাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

    রায় ঘোষণার পরে শনিবার সকাল থেকেই ভোজশালা চত্বরে ভিড় জমাতে শুরু করেন হিন্দু ভক্তরা। বহু মানুষ সেখানে সরস্বতী পুজো ও প্রার্থনায় অংশ নেন। এ দিন সকালে ভোজ উৎসব সমিতির পদাধিকারীদের সঙ্গে ভক্তরা প্রাঙ্গণে সমবেত হন, যেখানে পূর্ণ আচার-অনুষ্ঠান সহকারে হনুমান চালিশা পাঠ করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে গোটা এলাকায় কড়া পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    শুক্রবার মধ্যপ্রদেশে হাইকোর্টের বিচারপতি বিজয়কুমার শুক্লা এবং বিচারপতি অলোক অবস্থীর ডিভিশন বেঞ্চ ২৪২ পাতার রায়ে জানায়, ভোজশালা চত্বরে সংস্কৃত শিক্ষা কেন্দ্র এবং দেবী সরস্বতীর মন্দির থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। ঐতিহাসিক নথি থেকেও দেখা গিয়েছে ভোজশালার এই বিতর্কিত এলাকা সংস্কৃত চর্চার পীঠস্থান ছিল, যা রাজা ভোজের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছে, ‘হিন্দু উপাসনার ধারাবাহিকতা কখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।’

    এই মামলার কেন্দ্রবিন্দু ছিল ASI-র ২০০৩ সালের একটি ব্যবস্থা। সেই নিয়ম অনুযায়ী, মঙ্গলবার হিন্দুরা এবং শুক্রবার মুসলিমরা নির্দিষ্ট সময়ে প্রার্থনা করতে পারতেন। আদালত এখন সেই ব্যবস্থাকে বাতিল করেছে। আদালতের মতে, ওই নির্দেশ হিন্দুদের পূজার অধিকারে বাধা সৃষ্টি করছিল।

    হাইকোর্ট আরও জানিয়েছে, মুসলিম পক্ষ চাইলে সরকার তাদের অন্যত্র মসজিদ তৈরির জন্য জমি দিতে পারে। তবে ভোজশালা কমপ্লেক্সের ধর্মীয় চরিত্র এখন থেকে সরস্বতী মন্দির হিসেবেই গণ্য হবে।

    মামলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে ASI-র ২০২৪ সালের বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা। প্রায় ৯৮ দিন ধরে চালানো সেই সমীক্ষায় বহু মন্দির-স্থাপত্যের নিদর্শন, ভাঙা মূর্তি, সংস্কৃত শিলালিপি এবং প্রাচীন শিক্ষাকেন্দ্রের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছিল বলে আদালতে জানানো হয়।

    হিন্দু সংগঠনগুলির দাবি, ভোজশালা ছিল রাজা ভোজ প্রতিষ্ঠিত সরস্বতী মন্দির। অন্যদিকে, মুসলিম সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে একে কমল মওলা মসজিদ বলে দাবি করে এসেছে। এই বিরোধ কয়েক দশক ধরে চলছিল এবং বিশেষ করে বসন্ত পঞ্চমী ও শুক্রবার একসঙ্গে পড়লে উত্তেজনা তৈরি হতো। রায়ের পর মুসলিম সংগঠনগুলি অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

  • Link to this news (এই সময়)