NEET-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় প্রতিবাদে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। ইতিমধ্যেই এই চক্রের দুই মাথাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। NTA-এর (ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি) ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরীক্ষার্থীরা। এ বার কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।
সোশ্যাল মিডিয়ায় করা একটি পোস্টে কংগ্রেস নেতা অভিযোগ করেন যে, এই ঘটনার ফলে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর আগেই প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর দাবি, পরীক্ষা প্রক্রিয়া সংক্রান্ত বিভিন্ন সতর্কতা ও সুপারিশগুলোকে সরকার সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছে। তাঁর কথায়, ‘গত দুই বছর ধরে ২২ লক্ষ পরীক্ষার্থী দিনরাত এক করে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। অথচ তাদের সেই কঠোর পরিশ্রম আজ সম্পূর্ণ পন্ড হয়ে গিয়েছে। সারা দেশ জানে পরীক্ষা শুরুর দু’দিন আগেই হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে 'নিট'-এর প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়েছিল।’
রাহুলের অভিযোগ, পরীক্ষা সংস্কারের লক্ষ্যে গঠিত একটি কমিটির দেওয়া সুপারিশগুলোকে শিক্ষা মন্ত্রক সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছে। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ভূমিকার সমালোচনা করে কংগ্রেস সাংসদ বলেন, ‘ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানজি দাবি করছেন যে, এই ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই। অথচ ওই কমিটি বেশ কিছু সুপারিশ পেশ করেছিল। কিন্তু তিনি (ধর্মেন্দ্র প্রধান) সেগুলোকে আস্তাকুঁড়ে ছুড়ে ফেলে দিয়েছিলেন। তাঁর যুক্তি ছিল— কমিটির সদস্যরা যে হেতু বিরোধী শিবিরের, তাই তাঁদের দেওয়া পরামর্শগুলো সম্পূর্ণ অর্থহীন।’
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অপসারণে দাবি জানিয়েছেন রাহুল। তাঁর কথায়, ‘প্রধানমন্ত্রীর উচিত অবিলম্বে নির্দেশ জারি করা, যাতে ধর্মেন্দ্র প্রধান হয় পদত্যাগ করেন, অথবা তাঁকে মন্ত্রিপদ থেকে বরখাস্ত করা হয়। পাশাপাশি, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত যাদেরই দোষী সাব্যস্ত করা হবে, তাদের সবাইকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হোক।’ বিজেপিকে আক্রমণ করে রাহুলের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা আজ দুর্বল হয়ে পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধার পরিবর্তে কেবল আদর্শগত আনুগত্যকেই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।