• মন্ত্রিসভায় লটারি কিঙের জামাই থেকে ৩০-এর তরুণী! দপ্তর ফাঁকা রেখে কোন খেলা বিজয়ের?
    এই সময় | ১৭ মে ২০২৬
  • রুপোলি পর্দার গ্ল্যামার সরিয়ে তামিলনাড়ু রাজ্যের শাসনভার নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন অভিনেতা সি জোসেফ বিজয়। তবে তাঁর প্রথম মন্ত্রিসভার দপ্তর বণ্টনে বলা যেতে পারে দেখা গেল সেই ফিল্মি চমক। শনিবার (১৬ মে) বিকেলে নতুন মন্ত্রীদের তালিকা প্রকাশ করেছে রাজভবন। থেকে এক প্রেস রিলিজ়ের মাধ্যমে । সেই তালিকা দেখে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নিজের প্রথম ক্যাবিনেট সাজানোর ক্ষেত্রে আবেগ নয়, প্রখর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং চুলচেরা বিশ্লেষণের পরিচয় দিয়েছেন TVK প্রধান।

    বিধানসভা নির্বাচনে যে যুব ও মহিলা ভোটাররা দল বেঁধে TVK-কে ভোট দিয়েছেন, তাঁদের কল্যাণের ভার সরাসরি নিজের কাঁধে রেখেছেন বিজয়। স্বরাষ্ট্র, পুলিশ, আইএএস-আইপিএস ও সাধারণ প্রশাসনের পাশাপাশি নারী ও শিশু কল্যাণ, যুব কল্যাণ এবং নগরোন্নয়নের মতো মেগা দপ্তরগুলি নিজের হাতেই রেখেছেন তামিলনাড়ুর নয়া মুখ্যমন্ত্রী।

    রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিজয়ের লক্ষ্য একটাই— উন্নয়নমূলক কাজের রাজনৈতিক সুফল যাতে সরাসরি তাঁর দলের ঝুলিতেই আসে। অন্যদিকে, দলের অঘোষিত ‘নম্বর টু’ হিসেবে উঠে এসেছেন এন আনন্দ। তাঁকে দেওয়া হয়েছে গ্রামোন্নয়ন, পঞ্চায়েত ও জলসম্পদ মন্ত্রক। বলাই বাহুল্য, রাজ্যের গ্রামীণ ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখতে এই দপ্তরগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    DMK জমানায় স্ট্যালিন-পুত্র উদয়নিধির সামলানো হাইপ্রোফাইল ক্রীড়া দফতর এবং গণপূর্ত মন্ত্রকটি এ বার তুলে দেওয়া হয়েছে বিজয়ের বিশ্বস্ত, TVK-র কোর কমিটির সদস্য আধব অর্জুনের হাতে। তিনি আবার ‘লটারি কিং’ সান্তিয়াগো মার্টিনের জামাই।

    তবে মন্ত্রী নির্বাচনে বিজয় সবথেকে ঝুঁকির এবং ঐতিহাসিক পদক্ষেপটি নিয়েছেন শিল্প মন্ত্রকে। মন্ত্রিসভার সর্বকনিষ্ঠ মুখ সেলভি এস কীর্তনার হাতে তিনি তুলে দিয়েছেন এই হাইপ্রোফাইল দপ্তরের ভার। তিনিই তামিলনাড়ুর প্রথম মহিলা শিল্প ও বিনিয়োগ মন্ত্রী হলেন। এর মাধ্যমে মহিলা ও তরুণ ভোটারদের এক বড় বার্তা দিলেন বিজয় বলে মনে করা হচ্ছে।

    শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে প্রাক্তন আমলাদের উপরে ভরসা রেখেছেন বিজয়। স্বাস্থ্য, চিকিৎসা শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের দায়িত্ব দিয়েছেন প্রাক্তন IRS অফিসার তথা চিকিৎসক, ডাঃ কে জি অরুণরাজকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনীতির বাইরে গিয়ে এমন যোগ্য মানুষকে গুরুদায়িত্ব দেওয়া বিজয়ের নতুন ধারার রাজনীতির ছাপ।

    ১০৮টি আসন পাওয়া বিজয়ের নতুন সরকারকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে সাহায্য করেছে জোট সঙ্গীরা। আর সেই জোটের সমীকরণ মাথায় রেখেই সম্ভবত পরিবহন, রাজস্ব, কৃষি, আবাসন এবং তথ্যপ্রযুক্তির মতো একগুচ্ছ ভারী দপ্তর এখনও নিজের ঝুলিতেই ফাঁকা রেখে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, খুব শিগগিরই মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ করে DMK-র হাত ছেড়ে আসা কংগ্রেসকে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ ক্যাবিনেট পদ দেওয়া হতে পারে।

    আস্থা ভোটে বিরোধী AIADMK-র ২৪ জন বিদ্রোহী বিধায়কের আকস্মিক সমর্থন পাওয়ার পরে বিজয়ের সরকারের ভিত অনেকটাই মজবুত। এই পরিস্থিতিতে ঝুলে থাকা দপ্তরগুলি যে আগামী দিনে জোটের রাশ শক্ত রাখতে ট্রাম্পকার্ড হিসেবে ব্যবহৃত হবে, তা বলাই বাহুল্য।

  • Link to this news (এই সময়)