করোনা মহামারি, একের পর এক যুদ্ধ এবং বিশ্বজুড়ে চলা তীব্র জ্বালানি সঙ্কটের জেরে গোটা পৃথিবী আজ এক অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে। শনিবার নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে সে দেশে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিশ্ববাসীকে সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত না বদলালে বিগত কয়েক দশকের দারিদ্র্য দূরীকরণের সমস্ত সাফল্য ধুয়ে-মুছে যেতে পারে।
পাঁচ দেশ সফরের দ্বিতীয় পর্বে বর্তমানে নেদারল্যান্ডসে আছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। সেখান থেকেই মোদী বলেন, ‘বিশ্ব এখন সম্পূর্ণ নতুন কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।’
বিশেষ করে আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের ইরান আক্রমণের পরে তেল-সমৃদ্ধ পশ্চিম এশিয়ায় যে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে চলতি দশককে ‘Decade of Disasters’ অর্থাৎ, ‘বিপর্যয়ের দশক’ বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী হিন্দিতে বলেন, ‘প্রথমে এল করোনা মহামারি, তারপর শুরু হলো যুদ্ধ, আর এখন চলছে তীব্র জ্বালানি সঙ্কট।’ তাঁর সতর্কবার্তা, সময় থাকতে ব্যবস্থা না নিলে বিশ্বের এক বড় অংশের জনসংখ্যা ফের চরম দারিদ্র্যের অন্ধকারে তলিয়ে যাবে।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি ও ভারতের অর্থনীতি নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের আবহে প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এই পাঁচ দেশ সফরে যাওয়ার ঠিক আগেই হায়দরাবাদের এক সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর উদ্দেশে সাশ্রয়ী জীবনযাপন বা কৃচ্ছ্রসাধনের ডাক দিয়েছিলেন। দেশের অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে তিনি ভারতীয়দের যথাসম্ভব ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজ করার, বিদেশ ভ্রমণ সীমিত রাখার, খেতে সার কম ব্যবহার করার, রান্নায় তেল কম ব্যবহার করার এবং সোনা কেনার প্রবণতা কমানোর আর্জি জানান।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বিশ্ব অর্থনীতির এই টালমাটাল পরিস্থিতি আগামী দিনে আরও কঠিন রূপ নিতে পারে। বিষয়টা আঁচ করে আগে থেকেই তৈরি থাকতে চাইছে ভারত।