• বিদেশেও ঝালমুড়ি, কৌশলী মোদি আসলে কী বোঝালেন?
    আজকাল | ১৭ মে ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: ঝালমুড়ি, বাংলার অতি সাধারণ এক খাবার। বিধানসভা ভোটের সময়ে জঙ্গলমহলে প্রচারে গিয়ে ঝালমুড়ি কিনে খেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেই থেকেই চর্চায় ঝালমুড়ি। এবার নরেন্দ্র মোদির হাত ধরে সেই ঝালমুড়ির আলোচনা বিশ্বমঞ্চে। নেদায়ল্য়্যান্ড সফরে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দ্য হেগ-এ ভারতীয় প্রবাসীদের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য পেশ করেন মোদি। সেখানে ঝালমুড়ি প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। উপস্থিত অভ্যাগতদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, " ঝালমুড়ি কি এখানেও পৌঁছে গিয়েছে?" মোদির মুখে ঝালমুড়ির কথা শুনেই সকলে করতালি দিতে শুরু করেন।

    ঠাসা জনসমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময়, প্রধানমন্ত্রী মোদি সদ্য সমাপ্ত পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরল, অসম এবং পুদুচেরির বিধানসভা নির্বাচনে উৎসাহী ভোটারদের বিপুল জনঅংশগ্রহণের কথাও উল্লেখ করেন।

    প্রধানমন্ত্রী যখন কথা বলছিলেন, ঠিক তখনই শ্রোতারা তাঁকে থামিয়ে দিয়ে প্রবল হর্ষধ্বনি ও করতালির মাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। এতে মোদি-কে ক্ষণিকের জন্য থামতে হয়। তিনি মৃদু হাসেন এবং এমন একটি বাক্য উচ্চারণ করেন যা মুহূর্তের মধ্যেই উপস্থিত সকলের মুখে হাসি ফুটিয়ে তোলে। বলেন, "ঝালমুড়ি কি এখানেও পৌঁছে গিয়েছে?"

    গত মাসে বাংলার নির্বাচনী প্রচার চলাকালীন, প্রধানমন্ত্রী মোদি ঝাড়গ্রামের রাস্তার ধারের একটি দোকানে কিছুক্ষণের জন্য দাঁড়িয়ে এক ঠোঙা ঝালমুড়ি চেখে দেখেছিলেন। তারপর থেকেই ঝালমুড়ি, রাজনৈতিক প্রতীকে পরিণত হয়। ছোট্ট দোকান থেকে প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি কিনে খাওয়ার বিষয়টি বাংলার মানুষের হৃদয়ে গভীর দাগ কেটেছিল।

    নেদারল্য়ান্ডের প্রবাসী ভারতীয়রা যে প্রধানমন্ত্রীর ইঙ্গিত স্পষ্টভাবে বুঝতে পেরেছিলেন, তা তাদের প্রতিক্রিয়াই প্রমাণ করে দেয়। রসিকতাটি মুহূর্তের মধ্যেই জমে ওঠে এবং পুরো সভাকক্ষ হাসির রোল ও করতালিতে ফেটে পড়ে। এর মাধ্যমেই প্রমাণিত হল যে, নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক নেতাদের ব্যবহৃত কিছু সরস উক্তি বা 'ওয়ান-লাইনার' রাজ্য, দেশের গণ্ডি ছাপিয়ে দুনিয়াতেও জনপ্রিয় হয়ে পড়তে পারে।

    দ্য হেগ-এর মতো স্থানে এই প্রসঙ্গটি উত্থাপন করার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী যেন সেই অতি পরিচিত নির্বাচনী নাট্যমঞ্চের আবহকেই পুনরায় ফিরিয়ে আনলেন। তিনি অত্যন্ত নিপুণভাবে তাঁর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচারের সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির স্মৃতিকে একসূত্রে গেঁথে দিলেন।

    তবে পুরো অনুষ্ঠানের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি বিষয়ক সেই সংক্ষিপ্ত ও আকস্মিক মন্তব্যটিই যেন সবার নজর কেড়ে নিল এবং হয়ে উঠল সন্ধ্যার মূল আকর্ষণ।

    শ্রোতাদের অনেকের কাছেই এটি কেবল একটি রসিকতা ছিল না, বরং এটি ছিল বাংলার সেই উত্তপ্ত নির্বাচনী প্রচারের প্রতি একটি তাৎক্ষণিক ও সুস্পষ্ট ইঙ্গিত, যেখানে প্রতিটি বাক্য, প্রতিটি খাবার এবং প্রতিটি স্লোগানই যেন এক বিশেষ রাজনৈতিক তাৎপর্য বা 'স্বাদ' লাভ করেছিল।

    আর একেবারে খাঁটি ভারতীয় রীতি মেনেই, হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে থেকেও রাস্তার ধারের সেই ঝাল-মশলাদার জনপ্রিয় খাবারটির নাম উল্লেখ করাই যথেষ্ট ছিল পুরো সন্ধ্যাটিকে জমিয়ে তোলার জন্য।

    প্রধানমন্ত্রী মোদির এই মন্তব্যটি হয়তো মাত্র কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়েছিল, কিন্তু এটি তাঁকে রাজনৈতিকভাবে আরও একবার সফলভাবে পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে এল।

    নির্বাচনী ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর বাংলার রাজনীতির সেই উত্তাপ কিছুটা প্রশমিত হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছিল; কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তাঁর এক চিলতে হাসির মাধ্যমে যেন ভিন্ন কথাই বুঝিয়ে দিলেন। তাঁর সেই হাসি যেন নীরবে বলে দিচ্ছিল যে, ঝালমুড়ির আন্তর্জাতিক ব্যাপ্তি বা গ্রহণযোগ্যতা যে অত্যন্ত চমৎকার, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
  • Link to this news (আজকাল)