• কোথায় 'পুষ্পা?’ ফলতার মঞ্চে বিস্ফোরক শুভেন্দু
    আজকাল | ১৭ মে ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২১ মে ফলতায় পুনর্নির্বাচন। শনিবার বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডার হয়ে ভোট প্রচারে আসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, "শুধু জয় নয়, বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করতে হবে।" তাঁর কথায়, “আমি আপনাদের কাছে ভোট চাইতে এসেছি। এই পুনর্নির্বাচনে শুধু দেবাংশুকে জেতানো নয়, এক লক্ষের বেশি ভোটে জিতিয়ে আমাদের কাছে পাঠাবেন।” মুখ্যমন্ত্রী জানান, ফলতা বিধানসভায় মোট ভোটার প্রায় ২ লক্ষ ২৫ হাজার এবং মানুষের সমর্থনই তাঁদের সবচেয়ে বড় শক্তি।

    জনসভা থেকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকেও তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। নাম না করেই তৃণমূলের একাধিক নেতাকে নিশানা করে তিনি বলেন, "সাধারণ নির্বাচনের সময় যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল, তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" 

    বক্তব্যের মাঝেই একসময় শুভেন্দু বলেন, “ওই ডাকাতটা কোথায়? পুষ্পা না কী যেন নাম। যত অভিযোগ করেছে, সব কিছুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবে। গুন্ডামি করতে দেব না। নিশ্চিন্ত থাকুন।” তাঁর এই মন্তব্যে সভাস্থলে উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়।

    এদিকে শুক্রবার ফলতায় প্রকাশ্যে দেখা যায় ওই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানকে। শুক্রবার সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে  শ্রীরামপুরে নিজের দলীয় অফিসে ছিলেন তিনি। সেখানে বসেই ২৯ এপ্রিল ভোট পরিচালনা করেছিলেন দোর্দদণ্ডপ্রতাপ জাহাঙ্গির। অভিযোগ, বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসতেই জাহাঙ্গীরের ওই দলীয় দপ্তর ব্যাপক ভাঙচুর চালায় বিজেপি। 

    এতদিন কোথায় ছিলেন দাহাঙ্গির? উজবাবে ফলতার তৃণমূল প্রার্থী বলেন, "বিজেপি ক্ষমতায় এসেই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে প্রশাসন রোজ যেভাবে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মিথ্যে মামলায় ফাঁসাচ্ছে, সে  জন্য এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রকাশ্যে আসিনি। পুলিশ আমাকে বাড়িতে ফিরিয়েছে এটা ডাহা মিথ্যে কথা। বাড়িতেই ছিলাম আমি।"

    উল্লেখ্য, ২৯ এপ্রিল বাংলায় দ্বিতীয় দফা ভোটের আগে পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মার হুঁশিয়ারির পরেও জাহাঙ্গির বলেছিলেন, ‘পুষ্পা ঝুঁকেগা নেহি।’ সেই প্রসঙ্গ টেনেই এদিন মুখ্যমন্ত্রী নাম না করে জাহাঙ্গিরকে নিশানা করেন। 

    ডায়মন্ড হারবার ও ফলতা অঞ্চলে অতীতে রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার বরদাস্ত করা হবে না। তিনি দাবি করেন, যাঁরা প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। শুভেন্দু অধিাকরীর দাবি, “আমি পুলিশ প্রশাসনকে বলেছি, সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করতে। মানুষের উপর অন্যায় অত্যাচার হলে সব সামনে আনা হবে।”

    এদিন পুলিশ প্রশাসন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, পুলিশ কল্যাণ পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ভাল উদ্দেশ্যে গঠিত হলেও পরবর্তীকালে এই পর্ষদ রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছিল। ফলে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

    তবে রাজনৈতিক আক্রমণের মাঝেও শান্তিপূর্ণ ভোটের বার্তা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের অন্যতম প্রধান দিক। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আর যাই হোক, শান্তিপূর্ণ ভোট হোক। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে।” একই সঙ্গে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "গণতন্ত্রের মর্যাদা রক্ষা করাই তাঁদের অঙ্গীকার। ভারতীয় জনতা পার্টি পরিচালিত রাজ্যগুলিতে নির্বাচনী সন্ত্রাসের কোনও জায়গা নেই" বলেও দাবি করেন তিনি।

    সভা শেষে ফলতার উন্নয়ন নিয়ে বড় প্রতিশ্রুতি দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এলাকার রাস্তা, পানীয় জল, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও পরিকাঠামোর উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। ফলতা বিধানসভার জন্য বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা পাশে থাকুন, উন্নয়নের দায়িত্ব আমার।” এখন পুনর্নির্বাচনের আগে শুভেন্দুর এই বার্তা রাজনৈতিক মহলে কতটা প্রভাব ফেলে, সেদিকেই নজর সকলের।
  • Link to this news (আজকাল)