• শান্তনু গ্রেপ্তারের পরেই পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড ভেঙে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ১৭ মে ২০২৬
  • নিজস্ব সংবাদদাতা, ডায়মন্ড হারবার, ১৬ মে– ডায়মন্ড হারবারে পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর বড় সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।  প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের  আমলে গঠিত পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড ভেঙে দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। সোমবার এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি তোলাবাজি, রাজনৈতিক হিংসা এবং সাধারণ মানুষের অভিযোগ নিয়ে কড়া পদক্ষেপের বার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী।

    শনিবার ফলতায় নির্বাচনী প্রচারে যাওয়ার আগে দীর্ঘ সময় ধরে পুলিশকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন শুভেন্দু। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড প্রথমে ভালো উদ্দেশে তৈরি হয়েছিল। কিন্তু পরে সেটি একটি রাজনৈতিক দলের শাখা সংগঠনে পরিণত হয়।‘ তাঁর অভিযোগ, এই বোর্ডের মাধ্যমে সাধারণ পুলিশ কর্মীদের চেয়ে কিছু নির্দিষ্ট আধিকারিকই বেশি সুবিধা পেয়েছেন।

    তিনি বিশেষভাবে শান্তনু সিনহা বিশ্বাস ও বিজিতাশ্ব রাউতের নাম উল্লেখ করেন। পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ডের সমন্বায়ক ছিলেন শান্তনু এবং বিজিতাশ্ব। উল্লেখ্য,  বৃহস্পতিবার শান্তনু দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। কালীঘাটের প্রাক্তন ওসি শান্তনু এখন কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার। ইনস্পেক্টর পদে অবসর নিয়েছিলেন। তার পর ওএসডি ছিলেন মমতার জমানায়। শনিবার শুভেন্দুর ঘোষণা, ‘পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড ভেঙে দিলাম। সোমবার সরকারি ভাবে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে।’

    ২০১২ সালে তৃণমূল রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরের বছর পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড তৈরি করেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেন্ট্রাল কমিটিতে ছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি। পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ডের মূল উদ্দেশ্য ছিল পুলিশ কর্মী ও তাঁদের পরিবারের স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং অবসরকালীন সুবিধা নিশ্চিত করা। তবে বিরোধীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, সময়ের সঙ্গে বোর্ডটি রাজনৈতিক প্রভাবাধীন হয়ে পড়ে। নতুন সরকারের সিদ্ধান্তে সেই অধ্যায়েরই ইতি ঘটতে চলেছে।

    এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, এখন থেকে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) অনুযায়ীই পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। রাজনৈতিক হিংসার শিকার মানুষ, পুলিশের দ্বারা অন্যায়ভাবে হেনস্থা হওয়া ব্যক্তি কিংবা থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হওয়া মহিলাদের অভিযোগ গ্রহণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি প্রকল্পে কাটমানি নেওয়া, টোটো-অটো চালক বা হকারদের কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায়ের অভিযোগ পেলেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘এ বার আর শাসকের আইন নয়, আইনের শাসন চলবে।‘ তিনি সাধারণ মানুষকে রসিদ ছাড়া কাউকে টাকা না দেওয়ার পরামর্শও দেন এবং কোনও অভিযোগ থাকলে সরাসরি থানায় যাওয়ার আহ্বান জানান।

     
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)