• প্রবল বৃষ্টি-হড়পা বানে ভূমিধস সিকিমে, আটকে থাকা পর্যটকদের উদ্ধারে সেনা
    প্রতিদিন | ১৭ মে ২০২৬
  • প্রবল বৃষ্টির জেরে ভূমিধস ও হড়পা বানের ধাক্কায় বিপর্যস্ত সিকিম। নাথু-লা রোডে আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধারে চলল সেনা অভিযান। অবরুদ্ধ একাধিক রাস্তা। ভুটানেও চলছে ভারী বর্ষণ। সেখানেও রাস্তায় উঠে এসেছে ঝোরা-নদী। এদিকে সিকিম ও ভুটান পাহাড়ে প্রবল বৃষ্টির জল সমতলে নামতে ফুসছে তিস্তা, তোর্সার মতো বিভিন্ন নদী। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের সিকিম কেন্দ্র সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তরের সমতলে সোমবার পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী চলবে।

    আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, একটানা বৃষ্টিতে এদিন দুপুর নাগাদ নাথু-লা রোডে ভূমিধস নামে। সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয় গ্যাংটকগামী সড়ক। আটকে পড়েন শতাধিক পর্যটক। প্রায় ছয় ঘণ্টা আটকে থাকার পরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করে সেনাবাহিনীর ত্রিশক্তি কর্পসের জওয়ানরা। সিকিম প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই পর্যটকরা নাথু-লা ও বাবা হরভজন সিং মন্দির দেখে ফেরার পথে আটকে পড়েন। হিমাঙ্কের নিচের তাপমাত্রা, পিচ্ছিল রাস্তা এবং প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও সেনাবাহিনী উদ্ধার অভিযান চালায়। 

    সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, ধস সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক না-হওয়া পর্যন্ত আটকে পড়া পর্যটকদের জন্য চিকিৎসা, গরম খাবার, জলখাবার, পানীয় জলের ব্যবস্থা হয়েছে। একটানা বৃষ্টির কারণে দিকচু-সিংতাম সড়কের পাশে তিনটেক খোলা উত্তাল হতে সড়ক ধসে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেখানেও যান চলাচল বন্ধ হয়। শনিবার দুপুর নাগাদ সড়কটি মেরামত করা হয়। ভূমিধস কবলিত সড়কে একটি ট্রাক আটকে যাওয়ায় ইন্দিরা বাইপাস থেকে এসটিএনএম হাসপাতালের দিকে যান চলাচল ব্যহত হয়েছে। প্রবল বর্ষণের জেরে সিকিমের একাধিক নদী ফুসছে। হড়পা বানের পরিস্থিতি হয়েছে উত্তর সিকিমের টুং নাগার মিয়াং চু নদীতে।

    সিকিমে ভারী বর্ষণের জেরে উত্তরের সমতলে তিস্তা নদীর জলস্তর বেড়েছে। অন্যদিকে প্রবল বৃষ্টি চলছে জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং সংলগ্ন ভুটান পাহাড়ে। ফুসছে তোর্সা, তিতি, বাংড়ি সহ একাধিক নদী। সীমান্তের জয়গাও শহরে তোর্সার জলে তলিয়েছে ভারত-ভুটান সড়ক। এছাড়াও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে টোটোপাড়া। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের সিকিম কেন্দ্রের অধিকর্তা গোপীনাথ রাহা জানান, শনিবার ও রবিবার রাতে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি জেলায়। ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কথাও জানানো হয়েছে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)