মন্দিরে ঢোকার ‘শাস্তি’! মহিলাকে অর্ধনগ্ন করে জুতোর মালা পরিয়ে ঘোরানো হল মহারাষ্ট্রে
প্রতিদিন | ১৭ মে ২০২৬
মন্দিরে ঢোকার অপরাধে মহিলাকে অর্ধনগ্ন করে গলায় জুতোর মালা পরিয়ে ঘোরানো হল এলাকায়। ভয়ংকর এই ঘটনা ঘটেছে মহারাষ্ট্রের উলহাসনগরের ওয়াঘরি এলাকায়। ঘটনার ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই নিন্দার ঝড় উঠেছে। গোটা ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, স্থানীয় কিছু সমস্যার জেরে এক রাজপুত পরিবারকে একঘরে করে তাঁদের মন্দিরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল স্থানীয় পঞ্চায়েত। তবে ওই পরিবার এহেন নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ জানায়। ঘটনার দিন মন্দিরে ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন চলছিল। সেখানে ওই রাজপুত পরিবারের এক যুবক এসে উপস্থিত হয়, এবং তাঁদের উপর জারি হওয়া নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ জানান। বলেন, তাঁরা কোনও অন্যায় করেননি ফলে মন্দিরে ঢোকায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা উচিত নয়। স্থানীয়দের উপস্থিতিতে জোর করে মন্দিরে ঢোকেন তিনি। এই ঘটনায় যুবকের উপর ক্ষুব্ধ হন একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের সদস্যরা।
অভিযোগ, ওই যুবক মন্দির থেকে ফেরার পর অভিযুক্তরা লাঠি ও রড নিয়ে তাঁদের বাড়িতে হামলা চালায়। ব্যাপক মারধোর করা হয় বাড়ির সদস্যদের। এখানেই খান্ত হননি হামলাকারীরা, থানায় অভিযোগ করলে পরিণতি ভয়াবহ হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। কান্তা প্রেম রাজপুত (৫০), তাঁর বোন গীতা রাজপুত এবং মেয়ে অঞ্জলিকে নিয়ে থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে রাস্তায় তাঁদের আটকানো হয়। তাঁদের পোশাক ছিঁড়ে, চুল কেটে, গলায় জুতোর মালা পরিয়ে ২ কিলোমিটার পথ হাঁটানো হয়। এমনকি অভিযুক্তদের পা ছুঁয়ে ক্ষমা চাইতেও বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ। গোটা ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সোশাল মিডিয়ায়।
ভয়ংকর এই ঘটনায় আক্রান্ত পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত উভয় পরিবারই একই সম্প্রদায়ের। ওই এলাকায় একটি পরিবারকে একঘরে করা হয়েছিল, যার জেরেই এই ঘটনা। গোটা ঘটনায় পুলিশ ২ মহিলাকে গ্রেপ্তার করেছে। পাশাপাশি একাধিক জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে। এই মামলায় মূল অভিযুক্ত-সহ বেশ কয়েকজন পলাতক। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।