• ‘তদন্তের আওতায় আসুক সিবিআইয়ের তদন্তকারী অফিসার সীমা’, আর জি কর কাণ্ডে বিস্ফোরক অভিজিৎ
    প্রতিদিন | ১৭ মে ২০২৬
  • আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ-খুনের মামলায় সিবিআইয়ের তদন্তকারী আধিকারীককে নিয়ে একসময় প্রশ্ন তুলেছিলেন নির্যাতিতা তরুণীর মা। এবার সেই সীমা পাহুজার ভূমিকায় সরাসরি প্রশ্ন তুলে দিলেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি তথা বর্তমান বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, শনিবার আর জি কর হাসপাতালে গিয়ে ওই তদন্তকারী আধিকারীককেও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

    এ দিন আরজিকর মেডিক্যালের এমার্জেন্সি বিল্ডিংয়ে যান অভিজিৎ। ওই এমার্জেন্সি বিল্ডিংয়েই তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুন করা হয়। কেন সেখানে পৌঁছন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ‌্যায়?  সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি জানতে পেরেছি, তদন্তে সিবিআই-এর যিনি কর্তা ছিলেন, সীমা পাহুজা তিনি দু’টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেননি। একটা ঘর যেটা প্রায় দু’বছরের কাছাকাছি বন্ধ। যেখান থেকে ইনক্রিমিনেটিং জিনিস পাওয়া যেতে পারে, সেটা তিনি খোলেনি। কেউ খোলেননি। আমি নিজে গিয়ে দেখে এলাম এখনও তালাবন্ধ এবং সিল করা। সত্যিই এমন কোনও ঘর আছে কি না, দেখতে এসেছিলাম।”

    অভিজিৎবাবু আরও বলেন, “যে দিন অভয়া মারা যায়, খুন হয়, সেদিন রাতে একটা সিঁড়ি দিয়ে একটা ডেডবডি নামানো হচ্ছিল আন্দাজ করা হচ্ছে। একজন নার্স ভিডিও তুলেছিলেন। সেই ভিডিও সিবিআই-এর সীমা পাহুজা নিয়ে নেন। নার্সকে বলেন, আপনি নিজের ভিডিওটা মুছে দিন। নইলে আপনি বিপদে পড়বেন। কে আর বিপদে পড়তে চায়? তিনি ভিডিওটা মুছে দেন, কপিটা দিয়ে দেন সিবিআই-এর সীমা পাহুজাকে। তারপর থেকে আর কখনও ভিডিওটা সর্বসমক্ষে আসেনি।”

    তাঁর দাবি, ওই সিঁড়িটা সোজা এমার্জেন্সিতে গিয়েছে। সিঁড়িটা দিয়ে নেমে একটা প্যাসেজ দিয়ে যেখানে যাওয়া যায়, সেখানে অভয়ার মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছে। এসব কিছু এখনও পর্যন্ত দেখেনি সিবিআই। এ প্রসঙ্গেই তাঁর প্রশ্ন, সিবিআই কেন এখনও এগুলো দেখার সময় পায়নি? পাশাপাশি, সীমা পাহুজা কার দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। সিবিআই নয়, নির্দিষ্ট করে সীমা পাহুজার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন অভিজিৎ। অভিযুক্ত হিসেবে সীমা পাহুজাকে তদন্তে যুক্ত করতে হবে বলে দাবি তুলেছেন তিনি।

    অভিজিতের বক্তব্য, “এটা তো অত্যন্ত স্বাভাবিক কাজ? উনি করেননি কেন? কে ওঁকে ইনফ্লুয়েন্স করেছিল?” প্রমাণ লোপাটে সীমা পাহুজাও যুক্ত বলে দাবি করেন অভিজিৎ। তাঁর কথায়, “অবশ্যই সাপ্রেশনে যুক্ত। নাহলে তদন্তের এই হাল হয় না। সিবিআই অনেক বড় সংস্থা, অনেক চালাক চতুর ব্যাপার। সিবিআই-এ এসব অকালকুষ্মাণ্ড থাকলে সিবিআই-এর দুর্নাম এভাবে হবে। তাই গোটা সিবিআই-কে দোষ দিচ্ছি না আমি। আমি দোষ দেখছি নির্দিষ্ট ওই অফিসারকে। তাঁকে অভিযুক্ত হিসেবে যুক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ করা দরকার।” 

    নতুন সরকার আসার পর ফের খুলছে আরজিকর মামলার ফাইল। আর জি কর ঘটনার তদন্তে সেই সময় যে আধিকারীকরা দায়িত্বে ছিলেন, তাঁদের তিন আইপিএস অফিসারকেও সাসপেন্ড করা হয়েছে। এ দিকে নির্যাতিতা তরুণীর পরিবারের আনা আবেদনের ভিত্তিতে মামলার শুনানি জন‌্য বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ গঠন করেছে কলকাতা হাই কোর্ট। হাই কোর্ট সূত্রে খবর, এবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ ও শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলা শুনবে। সেই আবহেই আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে গিয়ে মারাত্মক অভিযোগ তুললেন তমলুকের বিজেপি সাংসদ।

    অন‌্যদিকে, আর জি কর হাসপাতালের মধ্যে বেআইনি পার্কিংয়ে রাশ টানছেন কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের মধ্যে কোনও ধরনের বেআইনি পার্কিং বরদাস্ত করা হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, কোনও দালাল যেন হাসপাতালে রোগী বা তাঁর পরিজনদের কাছ থেকে টাকা না-চান, সে দিকে কড়া নজরদারি চালাতে হবে। সূত্রের খবর, দালাল সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ পেলেই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উপরও জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)