• মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে প্রথমবার নন্দীগ্রামে শুভেন্দু, বিধায়ক-সাংসদদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কী বার্তা দিলেন?
    এই সময় | ১৭ মে ২০২৬
  • বিধানসভায় ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবেই শপথ নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার পরে নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে ইস্তফা দেন। তবে এটাও স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, খাতায় কলমে তিনি এই কেন্দ্রের বিধায়ক না থাকলেও বন্ধু হিসেবে সব সময়েই নন্দীগ্রামের পাশে থাকবেন। কথা রাখলেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর শনিবার প্রথম নন্দীগ্রাম সফরে গিয়ে জোড়া বৈঠক করলেন তিনি। বুঝিয়ে দিলেন, এই কেন্দ্রের জন্য তাঁর টান কতটা।

    এ দিন রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ নন্দীগ্রামের রোয়াপাড়ার নিজের কার্যালয়ে যান শুভেন্দু। তাঁর জন্য আগে থেকেই রাস্তার দু’ধারে অপেক্ষা করেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ফুল দিয়ে, শাঁখ বাজিয়ে নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান তাঁরা। কেউ কেউ মিষ্টি নিয়েও হাজির হয়েছিলেন। হাত নেড়ে তাঁদের পাল্টা অভিবাদন জানান শুভেন্দুও। তার পরে ঢুকে যান কার্যালয়ে। শুরু হয় বৈঠক।

    শুভেন্দু নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ায় এই কেন্দ্রে উপনির্বাচন হবে। ফলে এখানে বিজেপি কাকে প্রার্থী করতে পারে, তা নিয়ে জল্পনার শেষ নেই। শুভেন্দুর এ দিনের বৈঠকে প্রার্থীর নাম ঠিক করা হতে পারে বলে ভেবেছিলেন অনেকেই। তবে জোড়া বৈঠকে ঠিক কী কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে তা জানা যায়নি।

    এ দিন প্রথমে দলীয় সাংসদ, বিধায়ক এবং সাংগঠনিক নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন শুভেন্দু। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কাঁথির সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারী, দক্ষিণ কাঁথির বিধায়ক অরূপ দাস, রামনগরের বিধায়ক চন্দ্র শেখর মণ্ডল, ভগবানপুরের বিধায়ক শান্তনু প্রামানিক, পটাশপুরের বিধায়ক তপন মাইতি প্রমুখ। এছাড়া সাংগঠনিক নেতৃত্বদের মধ্যে মেঘনাদ নাথ পাল, প্রলয় পাল, অঞ্জন ভারতীদের দেখা গিয়েছে। এর আধ ঘণ্টা পরে শুরু হয় প্রশাসনিক বৈঠক। জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার, অতিরিক্ত জেলাশাসক-সহ অন্যান্য কর্তাপা উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন পুলিশ সুপারও।

    বৈঠক শেষে ভগবানপুরের বিজেপি বিধায়ক শান্তনু প্রামাণিক বলেন, ‘কোন কোন কাজ আটকে রয়েছে, কোনগুলি আগে করতে হবে, কোন বিষয়গুলিতে জোর দেওয়া প্রয়োজন, সেগুলি নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে। মানুষকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালনের বার্তা দেওয়া হয়েছে সবাইকে।’ তবে নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন বা প্রার্থী নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি বলেই জানালেন তিনি। শান্তনুর কথায়, ‘শুধু বলা হয়েছে, ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের চেয়েও বেশি মার্জিনে জিততে হবে। তার জন্য সবাইকে নিয়ে কাজ করতে হবে আমাদের।’

  • Link to this news (এই সময়)