ভোটের প্রচারে বিজেপি কর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূল কাউন্সিলার রাজু পাড়ুই ওরফে চন্ডের বিরুদ্ধে। ভোট মিটতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। শনিবার হুগলির বৈদ্যবাটি এলাকার এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে বিজেপি কর্মীদের মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব।
ঘটনার সূত্রপাত ২৬ এপ্রিল। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে বৈদ্যবাটি পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের যাত্রাবাগে প্রচার করছিলেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। সেই সময়ে দলবল নিয়ে সেখানে হাজির হন চার নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার রাজু পাড়ুই। অভিযোগ, বিজেপি কর্মীদের ব্যাপক মারধর করেন তিনি। শুধু তাই নয়, পরে দেখে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পদ্মশিবিরের কর্মী-সমর্থকদের।
রাজ্যে পালাবদলের পরে শ্রীরামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বিজেপি নেতা স্নেহাংশু মোহান্ত। তিনি বলেন, ‘আমরা বাড়ি বাড়ি প্রচার করছিলাম। সেই সময়ে আমাদের উপরে চড়াও হন রাজু পাড়ুই, তারাপদ দাসরা। আমাদের বেধড়ক মারধর করা হয়।’ শুধু তাই নয়, রাজু তাঁর বাড়িতে লোক ঢুকিয়ে পরিবারকে মেরে ফেলার হুমকিও দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ স্নেহাংশুর। পরিবারের সুরক্ষার জন্য তিনি তৎক্ষণাৎ থানায় অভিযোগ জানাতে পারেননি বলে দাবি করেছেন বিজেপি নেতা।
এইআইআর দায়ের হওয়ার পরেই তদন্তে নেমে বৈদ্যবাটি থেকে রাজুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন শ্রীরামপুর থানার এক আধিকারিক। আগামী কাল অর্থাৎ রবিবার রাজুকে শ্রীরামপুর আদালতে তোলা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে কাউন্সিলার রাজুর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। তাঁদের দাবি, ক্ষমতায় আসার পরেই বিজেপি যে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের উপরে অত্যাচার শুরু করছে, এই ঘটনা তারই প্রমাণ।