এবার রাজগঞ্জের ফাইল খুলবে, প্রশান্তর আমলের সব কাজের তদন্ত হবে: শিখা
বর্তমান | ১৭ মে ২০২৬
ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: এবার রাজগঞ্জের ফাইল খুলবে। প্রশান্ত বর্মন বিডিও থাকাকালীন সেখানে সরকারি প্রকল্পে যত কাজ হয়েছে, তার তদন্ত হবে। শনিবার জলপাইগুড়িতে জেলাশাসকের কার্যালয়ে দাঁড়িয়ে এমনটাই জানান ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিজেপি বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়।
স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে খুনের ঘটনায় বিডিও প্রশান্ত বর্মনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হতেই তাঁকে গ্রেপ্তারের দাবিতে সরব হয় বিজেপি। রাজগঞ্জ বিডিও অফিসের গেটে বিক্ষোভ দেখায় তারা। দলের ওই বিক্ষোভে শিখাদেবীও শামিল হয়েছিলেন। সেসময় বিজেপির পক্ষ থেকে স্বঘোষিত দাবাং বিডিও প্রশান্ত বর্মনের সম্পত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। প্রশান্তর হাত দিয়ে বালি পাচারের ভাগ রাজগঞ্জ থেকে কলকাতায় তৃণমূল নেতাদের কাছে যায় বলে অভিযোগ তুলে সরব হন গেরুয়া শিবিরের নেতা-নেত্রীরা। এনিয়ে জলপাইগুড়িতে এসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারও সরব হন। পুলিশের খাতায় ‘পলাতক’ হওয়া সত্ত্বেও ভোটের আগে প্রশান্ত বর্মনকে রাজগঞ্জে দেখা গিয়েছে বলে অভিযোগ।
এদিন ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায় বলেন, প্রশান্ত বর্মন বিডিও থাকাকালীন রাজগঞ্জ ব্লক অফিসে প্রচুর অনৈতিক কাজ হয়েছে বলে আমাদের কাছে খবর। সবটাই তদন্ত হবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একের পর এক ফাইল খোলার নির্দেশ দিচ্ছেন। এবার রাজগঞ্জের ফাইল খুলবে। প্রশান্ত জমানায় রাজগঞ্জে সরকারি প্রকল্পে কী দুর্নীতি হয়েছে, কতটা ‘পুকুর চুরি’ হয়েছে তা খতিয়ে দেখতে স্পেশাল অডিট করানো হতে পারে বলেও এদিন ইঙ্গিত দিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক। তিনি বলেন, তৃণমূল জমানায় হওয়া সব দুর্নীতির তদন্ত হবে। এসবের সঙ্গে যারা যুক্ত, শাস্তি পেতে হবে তাদের। প্রয়োজনে ইডি, সিবিআইয়ের মতো কেন্দ্রীয় এজেন্সি দিয়ে তদন্ত হবে।
রাজগঞ্জে বিডিওর চেয়ারে বসে প্রশান্ত বর্মন ‘মৌরসিপাট্টা’ চালিয়েছেন বলে অভিযোগ। বিধাননগর দক্ষিণ থানায় তাঁর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের হতেই গা ঢাকা দেন তিনি। এরপরই তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করে। ২০১৯ সালে বিডিও হিসেবে চাকরিতে যোগ দিলেও কালচিনি, শিলিগুড়ি ও কলকাতার নিউ টাউনে কীভাবে তাঁর একাধিক প্রাসাদোপম বাড়ি ও ফ্ল্যাট হল, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
প্রশান্ত বর্মনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বাইরে থেকে নিজের পছন্দের ঠিকাদারদের নিয়ে এসেছিলেন তিনি। বেশিরভাগ কাজের বরাত তাঁরাই পেতেন। স্থানীয় ঠিকাদার অশোক চট্টোপাধ্যায় বলেন, প্রশান্ত বর্মন নিজেদের ঠিকাদার দিয়ে কাজ করিয়েছেন। আমরা কিছু কাজ পেলেও পেমেন্ট পাইনি। সরকারি টাকা নয়ছয় করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সবটা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে জানাব।
দিনেরবেলা বিডিওকে বেশিরভাগ দিন অফিসে দেখা যেত না। সন্ধ্যার পর অফিসে আসতেন তিনি। তাঁর সঙ্গে থাকতেন ঘনিষ্ঠ কিছু লোকজন। সন্ধ্যার পর রাজগঞ্জ বিডিও অফিসে কী চলত, তারও হদিশ পেতে চাইছে বিজেপি নেতৃত্ব।
খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রশান্ত বর্মনকে গত জানুয়ারি মাসে রাজগঞ্জের বিডিওর চেয়ার থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপরই তাঁর আমলের বহু কাজের বরাত বাতিল করে দেয় জেলা প্রশাসন। সূত্রের খবর, প্রশান্তর আমলের শেষের দিকে পাওয়া প্রায় সাত কোটি টাকার কাজের বরাত একদিনেই বাতিল করে দেওয়া হয়েছিল সেসময়। কারা সেই কাজ পেয়েছিলেন, কেন তড়িঘড়ি ওই সমস্ত কাজের বরাত বাতিল করা হয়েছিল, সবটার তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে বিজেপির তরফে।