• সই জালের ঘটনায় গাজোলের কাটনা স্কুলের প্রধান শিক্ষককে শুনানিতে ডাকল ডিপিএসসি
    বর্তমান | ১৭ মে ২০২৬
  • সংবাদদাতা, পুরাতন মালদহ: মালদহ জেলার গাজোল সার্কেলের কাটনা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকার সই জাল করে মিড ডে মিল এবং কম্পোজিট গ্রান্টের টাকা তুলে নয়ছয় করার অভিযোগ উঠেছিল খোদ প্রধান শিক্ষক সুকমল মুদির বিরুদ্ধে। ঘটনায় হিমলা বালা নামে ওই শিক্ষিকা স্থানীয় সার্কেল অফিসে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। এরপর তদন্তে নামে স্থানীয় সার্কেল। স্থানীয় সার্কেল অফিস থেকে জেলা শিক্ষাদপ্তর (প্রাথমিক) কাছে তদন্তের রিপোর্ট পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপরেই মালদহ জেলা প্রাইমারি স্কুল কাউন্সিল শুনানিতে ডাকল ওই প্রধান শিক্ষককে। ২১ মে ওই শিক্ষককে সেজন্য অফিসে যেতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে, একই অভিযোগে গাজোলের বিডিও তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। তাঁরাও ওই অভিযোগ নিয়ে তদন্ত করবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই  শিক্ষা মহলে ব্যাপক হইচই পড়ে গিয়েছে। 

    মালদহ জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (প্রাথমিক) মলয় কুমার মণ্ডল বলেন, স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা সই জাল নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন। ডিপিএসসিতে শুনানিতে ডেকে ওই প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য শোনা হবে।  

    স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছ, বর্তমানে ওই স্কুলের পড়ুয়ারা সংখ্যা ১৩২। শিক্ষক-শিক্ষিকা চার জন। নিয়ম অনুযায়ী কোনো গ্রান্টের টাকা তুলতে শিক্ষক প্রতিনিধির সই লাগে। ওই স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা হিমলা বালা সরকার সার্কেল অফিসে অনিয়ম নিয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তাতে উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের আগস্ট মাস থেকে তিনি লক্ষ্য করেন প্রধান শিক্ষক মিড ডে মিলের এবং কম্পোজিট কোনো চেকেই ওই শিক্ষিকার সই নিচ্ছেন না। প্রধান শিক্ষককে ব্যাংকের বই আপডেট করতে বললেও টালবাহনা করতে থাকেন। ২৭ এপ্রিল পাশবই আপডেট করলে লক্ষ্য করেন ওই অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলা হয়েছে। ওই শিক্ষিকার অভিযোগ, সই জাল করে টাকা তুলেছেন প্রধান শিক্ষক। 

    গাজোল সার্কেলের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রশান্ত রায় বলেন, অভিযোগ পেয়ে তদন্ত নেমেছিলাম। তাতে শিক্ষাবন্ধু সহ পাঁচ জন সদস্য ছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে প্রধান শিক্ষক সই জাল করেন বলে স্বীকার করেছেন। বাকিটা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দেখছে। ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষককে একাধিক বার ফোন করা হলে তিনি তোলেননি। মেসেজেরও উত্তর দেননি।
  • Link to this news (বর্তমান)