• তারাপীঠে পুণ্যার্থীর ঢল, ফলহারিণী অমাবস্যায় গভীর রাত পর্যন্ত খোলা মন্দির
    বর্তমান | ১৭ মে ২০২৬
  • সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ফলহারিণী অমাবস্যা উপলক্ষ্যে শনিবার তারাপীঠে ব্যাপক পুণ্যার্থী সমাগম হল। শনিবার ছুটি ও পরেরদিন রবিবার হওয়ায় এবার ভক্তদের ভিড় গতবছরের তুলনায় অনেকেটাই বেশি হয়েছে বলে মন্দির কমিটির দাবি। উল্লেখ্য, কৌশিকী অমাবস্যার পরই ফলহারিণীতে সবচেয়ে বেশি ভিড় হয়। 

    এদিন ভোর ৪টে ১মিনিটে  ফলহারিণী অমাবস্যা তিথি শুরু হয়। রাত ১টা ১৩ মিনিট পর্যন্ত চলে। ফলে রাত ৩টে থেকে ভক্তরা দেবীকে দর্শন করে নানারকম ফল দিয়ে পুজো দিতে ভিড় জমাতে শুরু করেন। এরপর বেলা যতই গড়িয়েছে ততই ভিড় বেড়েছে। রাতে একদিকে দেবীর নিশিপুজো, অন্যদিকে যজ্ঞের আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে মন্দির ও শ্মশান চত্বর। অনেকে বলেন, মানুষ সারাজীবন কর্ম করে যান। কিন্তু, মনে করা হয়, এই কর্মসমূহের ফল দান করেন দেবী। প্রবীণ সেবাইত প্রবোধ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ফলহারিণী অমাবস্যায় ভক্তরা ধর্ম, কর্ম, অর্থ ও মোক্ষলাভের আশায় দেবীকে ফল উৎসর্গ করে পুজো দেন। একদিকে ফলহারিণী সাধকের কর্মফল হরণ করেন। অন্যদিকে, কর্মফল হরণ করে ভক্তদের, তাঁদের অভিষ্ট ফল, মোক্ষফল প্রদান করেন।ফলহারিণী অমাবস্যা উপলক্ষ্যে এদিন দু’বার আরতি হয়। সন্ধ্যায় নানারকম ফল দিয়ে দেবীকে সাজিয়ে তুলে সন্ধ্যারতি এবং নিশিরাতে ফের আরতি নিবেদন করা হয়। দু’বার ভোগও নিবেদন করা হয়। রাতে মা-কে কারণবারি, খিচুড়ি, পাঁঠার মাংসের ভোগ দেওয়া হয়। সারাবছর দেবীকে পেরা দিয়ে পুজো নিবেদন করা হয়। কিন্তু, বছরের এই দিনটিতে সকল ভক্ত নানারকম ফল দিয়ে দেবীকে পুজো অর্পণ করেন। মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায় বলেন, সনাতন ধর্মে ফলহারিণী অমাবস্যার একটি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। বিশেষ করে তারাপীঠ মহাশ্মশান ও মা তারার মন্দিরে এই তিথিতে বিশেষ পুজো ও উৎসবের আয়োজন করা হয়। এই ধর্মীয় আবেগকে কেন্দ্র করেই সারা রাজ্য এবং রাজ্যের বাইরে থেকে হাজার হাজার ভক্ত তারাপীঠে ভিড় করেছেন। ভক্তদের সুবিধার্থে এদিন তিথির শেষ পর্যন্ত অর্থাৎ গভীর রাত পর্যন্ত গর্ভগৃহ খুলে রাখা হয়। এই তিথিতে দেবীর আরাধনা করলে অবশ্যই বিশেষ ফল মেলে। সংসারে আসে সুখ, সমৃদ্ধি। হোটেল ব্যবসায়ী নিতাই মাল বলেন, সম্প্রতি প্রচণ্ড গরম ও বিধানসভা নির্বাচনের ব্যস্ততার কারণে পুণ্যার্থীদের আনাগোনা অনেকটাই কমে গিয়েছিল। ফলে হোটেল এবং পর্যটন-নির্ভর ব্যবসাগুলো বেশ ক্ষতির মুখে পড়েছিল। বিগত দিনগুলির মন্দা কাটিয়ে এই বিশেষ তিথিতে পর্যটকদের ভিড় উপচে পড়েছে। 
  • Link to this news (বর্তমান)