কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত ‘পেড় চলতা হ্যায়’ সিনেমায় বিষ্ণুপুরের এসডিপিও
বর্তমান | ১৭ মে ২০২৬
সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত ঝাড়খণ্ডের মগাহি ভাষার ছবিতে অভিনয় করেছেন বিষ্ণুপুরের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক মৈনাক বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘পেড় চলতা হ্যায়’ নামক ওই ছবিতে পরিবেশ সচেতনতার বার্তা দেওয়া হয়েছে। সিনেমার সিংহভাগজুড়ে রয়েছে ঝাড়খণ্ডের পালামৌর জঙ্গল। গত ১৫ মে কান চলচিত্র উৎসবে ‘পেড় চলতা হ্যায়’ প্রদর্শিত হয়েছে। এতে সিনেমার কুশীলবরা বেজায় খুশি।
বিষ্ণুপুরের এসডিপিও মৈনাক বন্দ্যোপাধ্যায় সিনেমায় বন দপ্তরের ডিভিশনাল ফরেষ্ট অফিসারের চরিত্রে অভিনয় করছেন। তিনি এনিয়ে কোনও মন্তব্য করতে না চাইলেও ‘পেড় চলতা হ্যায়’ সিনেমার পরিচালক দেবাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বনভুমির উপর অত্যাচার ক্রমবর্ধমান। গাছ স্থির থাকে বলেই তার উপর এত অত্যাচার হচ্ছে। কিন্তু এমন যদি হয় যে গাছ চলতে পারছে। তাহলে নিজেকে রক্ষার জন্য সে আক্রমণ প্রতিহত করতে পারত। তেমনই রহস্যজনক গল্পের মোড়কে পরিবেশ সচেতনতার বার্তা দেওয়া হয়েছে এই ছবিতে। ১০০ মিনিটের ওই সিনেমা কান চলচিত্রে প্রদর্শনের জন্য আবেদন জানানো হয়েছিল। তা মনোনীত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার প্রদর্শিত হয়েছে। গোটা পৃথিবীর বহু সিনেমার সঙ্গে আমাদের বানানো ছবিও সেখানে স্থান পেয়েছে। এটা আমাদের কাছে অত্যন্ত গর্বের।
সিনেমার গল্পকার পুলক দাসের কথায়, আমরা গাছ বাঁচান ও পরিবেশ রক্ষা করুন এই কথা শুনে শুনে অভ্যস্ত। কিন্তু যতক্ষণ তা মানুষের মনের অনুভুতিকে নাড়া দেয় ততক্ষণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা জাগ্রত হয় না। তাই রহস্যময় এবং রোমাঞ্চকর গল্পের মাধ্যমে মানুষকে এই বার্তা দেওয়া হয়েছে। সিনেমায় অবসরপ্রাপ্ত ডিভিশনাল ফরেষ্ট অফিসারের চরিত্রে অভিনয় করা সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমরা অন্য একটি কাজে পালামৌ জেলায় গিয়েছিলাম। সেখানকার জঙ্গল, ইংরেজ আমলের ভুতুড়ে বাড়ি সহ নানা রোমাঞ্চকর পরিবেশ দেখে প্রথমে একটি তথ্যচিত্র তৈরির পরিকল্পনা করি। সেই মতো পুলকবাবুকে গল্প লেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাঁর গল্পটিকে চিত্রনাট্যে রূপ দেন ঝাড়খণ্ডের এক সাংবাদিক সৈকত চট্টোপাধ্যায়। এই সিনেমায় মগাহি ও হিন্দি দুই ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। বলিউডের কয়েকজন প্রখ্যাত অভিনেতা সহ স্থানীয় নাট্যশিল্পীরা অভিনয় করেছেন ছবিতে। আমরা কান চলচিত্র উৎসবে প্রদর্শনের জন্য আবেদন করেছিলাম। শেষমেশ তা মনোনিত হয়। সেখানে এই ছবি প্রদর্শিত হয়েছে। এতে আমরা ভীষণ উচ্ছ্বসিত।