জেলাশাসকের সঙ্গে বৈঠকে জাতীয় সড়ক থেকে স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে আলোচনা
বর্তমান | ১৭ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: নবান্নে পালাবদলের পর এই প্রথম প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে বসলেন বিজেপি বিধায়করা। শনিবার দুপুরে সিউড়ির সার্কিট হাউসের ওই বৈঠকে জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের পাশাপাশি ছ’জন বিজেপি বিধায়ক ছিলেন। জেলাশাসক ধবল জৈনের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই বৈঠকে মূলত জেলার থমকে থাকা উন্নয়নমূলক প্রকল্প, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং বালি-পাথর শিল্পের স্বচ্ছতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে তৃণমূলের কোনো বিধায়ক ছিলেন না।
এদিনের বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোগত ইস্যু স্থান পেয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর, জাতীয় সড়ক চার লেন করার কাজ দ্রুত শুরু করা, সিউড়ি তিলপাড়ায় জরাজীর্ণ ব্রিজের বিকল্প হিসাবে নতুন ব্রিজ নির্মাণ এবং দুবরাজপুরে জাতীয় সড়কের বাইপাস প্রকল্পের জট কাটানো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া সিউড়িতে পিপিপি মডেলে মেডিকেল কলেজ গড়ার যে পরিকল্পনা পূর্বতন সরকার নিয়েছিল, তা সম্পূর্ণ বাতিল করার বিষয়েও নীতিগত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিধায়কদের দাবি, জনস্বার্থেই এই ধরনের মডেলে বদল আনা প্রয়োজন। বৈঠক শেষে সিউড়ির বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, আমরা জেলার সমস্ত বিজেপি বিধায়করা জেলাশাসকের সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন জানিয়েছিলাম। সেইমতো আজ একাধিক জেলাভিত্তিক ইস্যুতে গঠনমূলক কথা হয়েছে। এটি একটি অনুষ্ঠানিক বৈঠক ছিল। পরবর্তীতে যখন আনুষ্ঠানিক বা ‘ফরমাল’ মিটিং হবে, তখন সমস্ত দলের বিধায়কদেরই আমন্ত্রণ জানানো হবে। আগের সরকারের বিমাতৃসুলভ আচরণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি স্পষ্ট করে দেন, নয়া জমানায় তাঁরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পথে হাঁটবেন না। বর্ষা আসন্ন, তাই এদিনের বৈঠকে জেলার স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং বিশেষ করে গ্রামীণ হাসপাতালগুলির পরিকাঠামো নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। বিজেপি বিধায়করা সম্প্রতি বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন করে যে অভাব-অভিযোগ লক্ষ্য করেছেন, তা জেলাশাসককে জানান। হাসপাতালের ‘রেফার রোগ’ বন্ধ করা এবং পরিষেবার মান বাড়ানোর দাবি তোলা হয়েছে। পাশাপাশি, বহু পঞ্চায়েত ও পুরসভার প্রতিনিধিরা কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় সাধারণ মানুষের পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে। প্রশাসনিক আধিকারিকদের মাধ্যমেই যাতে সেই পরিষেবা জনগনের দোরগোড়ায় পৌঁছায়, সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বালি ও পাথর পরিবহণের ক্ষেত্রে দুর্নীতি রুখতে এদিনের বৈঠক থেকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ইতিপূর্বেই অবৈধ টোল গেট ও ভুয়ো ডিসিআর বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। সেইমতো সিদ্ধান্ত হয়েছে, এখন থেকে ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তর, পুলিশ এবং ম্যাজিস্ট্রেট র্যাঙ্কের অফিসারের উপস্থিতিতে মাইকিং করে সরকার সরাসরি ডিসিআর সংগ্রহ করবে। জগন্নাথ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি কোথাও কোনও অনিয়মের অভিযোগ আসে তবে সংশ্লিষ্ট সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে বিধায়করা সরাসরি এফআইআর করবেন। এছাড়া দেউচা পাচামি প্রকল্প নিয়ে আদিবাসী জমিহারাদের প্রকৃত তালিকা তৈরি এবং প্রজেক্ট ঘোষণার পর বেনামে জমি কেনা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার জন্য প্রশাসনকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।