উচ্চ মাধ্যমিকে পাশের হার এবং ‘হাইস্কোর’ বাড়াতে তৎপর সংসদ
বর্তমান | ১৭ মে ২০২৬
অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: উচ্চ মাধ্যমিকের সিমেস্টার পদ্ধতি চালু করার সময় সংসদের আশা ছিল, পাশের হার অনেকটইি বাড়বে। ‘হাই স্কোর’এর (৯০ থেকে ১০০ শতাংশ) সংখ্যা বৃদ্ধি হবে। তবে কার্যক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, এর কোনোটিই হয়নি। পাশের হার বেড়েছে নামমাত্র। ‘এ++’ গ্রেড (যা আগে ছিল ‘ও’ গ্রেড) প্রাপক ও শতাংশের হারে গতবছরের তুলনায় সেভাবে বাড়েনি। তাই এবার ফলাফল পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংসদ। কোথায় গলদ হল, তা বুঝে নিয়ে বেশ কিছু দাওয়াইয়ের পরিকল্পনাও করেছে।
ফলপ্রকাশের দিন সাংবাদিক বৈঠকে সংসদ সভাপতি পার্থ কর্মকার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ফলের পরিসংখ্যানগত মূল্যায়ন করা হবে। শনিবার তিনি বলেন, ‘সিমেস্টার পদ্ধতি একেবারেই নতুন। ছাত্র-ছাত্রীরা তো বটেই, শিক্ষকদের একটা বড়ো অংশই এর সঙ্গে মানিয়ে উঠতে পারেননি। আপাতভাবে মনে করা হচ্ছে সেটাই আশানুরূপ ফল না হওয়ার কারণ। এছাড়াও দেরিতে বই পাওয়ার মতো সমস্যাও ছিল।’ তিনি জানান, পিছিয়ে পড়া স্কুলগুলি এবার চিহ্নিত করা শুরু করবে সংসদ। ওই স্কুলের শিক্ষকদের দেওয়া হবে বিশেষ প্রশিক্ষণ। কোথাও যদি শিক্ষক সংখ্যার অভাবে ফল খারাপ হয়ে থাকে, তারও রেকর্ড রাখা হবে। পড়ুয়া এবং শিক্ষকদের নিয়মিত ক্লাসে থাকাও নিশ্চিত করা হবে সংসদের তরফে। এ বছরই প্রথমবারের জন্য স্কুলগুলির নিজস্ব ‘রিপোর্ট কার্ড’ বক্স প্লটের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে পাঠিয়েছে সংসদ।
পার্থবাবু বলেন, ‘নতুন সরকার স্কুলশিক্ষার সার্বিক উন্নতি চাইছে। তাই আমরা পর্যালোচনা করে যেমন রিপোর্ট পাব, তা শিক্ষাদপ্তরের কাছে পাঠাব। পাশাপাশি আমাদের সুপারিশও থাকবে। দপ্তরের ছাড়পত্র পেলে সেগুলি কার্যকর করা শুরু হবে।’ তিনি এও জানাচ্ছেন, সংসদ বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো কাজ করতে পারে না। নীচু ক্লাস থেকেই পড়ুয়াদের তৈরি হয়ে আসতে হবে। এর জন্য সমগ্র শিক্ষা মিশন, ডিআই, মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সঙ্গেও সমন্বয় রেখে, তাঁদের পরামর্শ মাথায় রেখে কাজ করবে সংসদ। স্কুলছুট কমানো, ক্লাসে হাজিরা বাড়ানো, শিক্ষক ও পড়ুয়াদের নিয়ে আলাদা ওয়ার্কশপ হলে অন্যান্য সর্বভারতীয় বোর্ডগুলির ছাত্রদের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারবেন উচ্চ মাধ্যমিক উত্তীর্ণ পড়ুয়ারা। বিশেষ করে ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ নম্বর পাওয়ার ক্ষেত্রে সংসদের পড়ুয়ারা পিছিয়ে রয়েছেন।