এলাকাবাসীই পুলিশের হাতে তুলে দিল বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে, হিঙ্গলগঞ্জে এসআইআরে নাম বাদ গেলেও থাকছিলেন তৃণমূল নেতার আশ্রয়ে
বর্তমান | ১৭ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ভারতে ঢুকে বসবাসের অভিযোগ উঠেছিল আগেই। জোগাড় হয়ে গিয়েছিল ভারতীয় পরিচয়পত্র। অভিযোগ, তাকে আশ্রয় দিয়েছিলেন স্থানীয় এক তৃণমূল নেতা। একাধিক ভারতীয় পরিচয়পত্রের ব্যবস্থা তিনিই করে দেন। কিন্তু সাম্প্রতিক এসআইআরে যথারীতি তার নাম বাদ যায়। তারপরও কোনো হেলদোল ছিল না। এলাকায় দাপটের সঙ্গেই থাকছিল সে। হিঙ্গলগঞ্জের স্যান্ডেলের বিল পঞ্চায়েত এলাকায় বসবাসকারী অভিযুক্ত এই অনুপ্রবেশকারীর নাম শহিদুল গাজি। শুক্রবার মধ্যরাতে গ্রামবাসীরাই তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে স্যান্ডেলের বিল এলাকায়। তার ‘আশ্রয়দাতা’ তৃণমূল নেতা বেপাত্তা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্যান্ডেলের বিল গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন উপপ্রধান তথা বর্তমানে তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য জয়নাল আবেদিনের আশ্রয়েই বছরের পর বছর ভুয়ো পরিচয়ে বসবাস করছিল অভিযুক্ত এই ‘বাংলাদেশি’। স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের হাতে তুলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জানা গিয়েছে, তার বাড়ি বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানা এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে খবর, কয়েক বছর আগে অবৈধভাবে সীমান্ত পার করে তাকে ভারতে নিয়ে আসেন তৃণমূল নেতা জয়নাল আবেদিন। তিনিই তাকে আশ্রয় দেন। শুধু তাই নয়, ভারতীয় পরিচয়পত্র পাইয়ে দিতে সক্রিয় ভূমিকা নেন। এমনকি, নিজের বাবাকে শহিদুলের ‘বাবা’ পরিচয় দিয়ে ভোটার কার্ড সহ একাধিক সরকারি নথি তৈরি করিয়ে দেন। ধীরে ধীরে এলাকায় পাকাপাকি বসবাস শুরু করে শহিদুল। পুলিশকে জানানো হলেও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে ক্ষোভ রয়েছে স্থানীয়দের। এলাকার এক তরুণীকে বিয়ে করে সংসার পেতে ফেলে অভিযুক্ত বাংলাদেশি। এসআইআরে নাম বাদ যাওয়ার পরও শহিদুল এলাকায় আগের মতোই থাকছিল। সাধারণ মানুষকে বিভিন্নভাবে হুমকিও দিয়েছে বলে অভিযোগ। এই অবস্থায় শুক্রবার রাতে আচমকাই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের একাংশ শহিদুলকে আটক করে। খবর দেওয়া হয় হিঙ্গলগঞ্জ থানায়। পুলিশ এসে তাঁকে নিজেদের হেপাজতে নেয়। ধৃত শহিদুল স্বীকার করে নেয়, ‘আমি অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশ করেছি।’ তৃণমূল নেতা জয়নাল আবেদিনের বেপাত্তা হওয়ায় তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি। দলের ব্লক সভাপতি আনন্দ সরকার বলেন, ‘বিষয়টি জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে বলব।’ বিজেপির বসিরহাট সাংগঠনিক জেলা যুব সভাপতি পলাশ সরকার বলেন, ‘তৃণমূল দিনের পর দিন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের মদত দিয়েছে। পুলিশ তখন তৃণমূলের দালাল ছিল। মানুষের কথা শোনা হত না। ধীরে ধীরে আরও ঘটনা দেখতে পাবেন।’ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতকে বসিরহাট আদালতে তোলা হলে পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।