নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত সোমবার মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের পরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, বকেয়া মহার্ঘভাতা (ডিএ) সহ একাধিক ইস্যু নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে পরের বৈঠকে। আগামী সোমবার সকাল ১১টায় সেই বৈঠক বসতে চলেছে নবান্নে। প্রশাসনিক মহলের খবর, মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকেই রাজ্যের ডবল ইঞ্জিন সরকার বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে। সেক্ষেত্রে বর্তমান সরকার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই বকেয়া মেটানোর পথে হাঁটতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।
দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর রাজ্য সরকারকে তার কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। বেঁধে দেওয়া হয় সময়সীমাও। কিন্তু সেই সময়সীমার মধ্যে বকেয়া ডিএ মেটাতে পারেনি পূর্বতন সরকার। কর্মচারীদের একাংশের ২০১৬ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত বকেয়া মেটানো হলেও ২০০৮ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত বকেয়া থাকা মহার্ঘভাতা একজন কর্মচারীকেও দিতে পারেনি বিগত সরকার। বিধানসভা নির্বাচনের পোস্টাল ব্যালটের ফলাফলেই এর প্রভাব স্পষ্ট বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ, সরকারি কর্মচারীদের পোস্টাল ব্যালট গণনার শুরু থেকেই পিছিয়ে যায় তৃণমূল। এই প্রেক্ষাপটে নতুন সরকারের সম্পূর্ণ বকেয়া ডিএ দ্রুত মিটিয়ে দেবে বলেই আশাবাদী কর্মচারী মহল।
সূত্রের খবর, পূর্বতন সরকারের পর্যায়ক্রমে ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে দাঁড়ি টানতে চলেছে বর্তমান সরকার। সেক্ষেত্রে মনে করা হচ্ছে, একবারেই সম্পূর্ণ বকেয়া মিটিয়ে কর্মচারীদের পাশে থাকার বার্তা দিতে পারে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। গত ৬ মে সুপ্রিম কোর্টে ছিল রাজ্যের ডিএ মামলার শুনানি। তার ঠিক আগের দিন রাজ্য সরকারের আইনজীবী কুণাল মিমানি তিন সপ্তাহের জন্য শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন। এ বিষয়ে কর্মচারীদের যুক্তি, বর্তমান সরকার ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেই শুনানির দিন পিছিয়ে দেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে। ডিএ নিয়ে মূল মামলাকারী ‘কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ’-এর সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে যা বোঝা যাচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে রাজ্য ডিএ পুরোপুরি মিটিয়ে দিয়েই শুনানিতে হাজির হতে চাইছে।’ বর্তমানে কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের কর্মীদের ডিএ’র ফারাক প্রায় ৪২ শতাংশ। বাজেটে ঘোষণা করেও ৪ শতাংশ ডিএ দিতে অপারগ হয়েছে পূর্বতন সরকার। ফলে এই ৪ শতাংশ নিয়ে বর্তমান সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেও নজর রয়েছে সরকারি কর্মচারীদের।
আগামী সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক ছাড়াও একাধিক কর্মসূচি রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। দুপুর ১ টায় বিএসএফের সঙ্গে বৈঠক রয়েছে তাঁর। বিকাল ৩টে নাগাদ ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা দেবেন তিনি। ২০ মে তাঁর উত্তরবঙ্গ সফর। উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক বৈঠক করবেন। ২১ তারিখ দুর্গাপুরে দুই বর্ধমান, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম সহ বেশ কিছু জেলাকে নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক করার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর।