নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দেশে বর্ষার মরশুম শুরু হল। এ রাজ্যে ঢুকতে তার কিছু দেরি আছে। তবে আপাতত রাজ্যে বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে তৈরি ঝড়বৃষ্টি চলবে। উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও লাগোয়া অঞ্চলে তার মাত্রা থাকবে বেশি।
কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, শনিবার আন্দামান-নিকোবর, আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগরে প্রবেশ করেছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। অর্থাৎ বর্ষা মরশুম শুরু হয়ে গেল। দক্ষিণ-পূর্ব আরব সাগর ও দক্ষিণ-পশ্চিম ও দক্ষিণ পূর্ব বঙ্গোপসাগরের কিছু অংশে বর্ষার প্রবেশ হয়েছে। তাছাড়া নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং আন্দামান ও আন্দামান সাগরের কিছু অংশে বর্ষা চলেও এসেছে। সেখানে বৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছে। চারদিনের মধ্যে আন্দামান ও আন্দামান সাগরে বর্ষা প্রবেশ করবে। বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরের অংশেও সে অগ্রসর হবে। দ্রুত অগ্রগতির অনুকূল পরিস্থিতি এখন রয়েছে। ২৩ মে নাগাদ কেরল দিয়ে দেশের মূল ভূখণ্ডে বর্ষা আসতে পারে। তবে দিন তিন-চার এগতে পিছনোর সম্ভাবনা রয়েছে। কেরলে বর্ষা প্রবেশের স্বাভাবিক দিন হল ১ জুন। দক্ষিণ-পশ্চিম আরব সাগরে একটি নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার জেরে এবছর বর্ষার আগমন খানিক এগিয়ে এসেছে।
উক্ত নিম্নচাপটি এখন সুষ্পস্ট নিম্নচাপ হিসেবে দক্ষিণ-পশ্চিম ও পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরের উপরে অবস্থান করছে। তবে সেটি দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের উপর সরে এসে রবিবার গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এরপর চলতি মাসের ২৮ তারিখ পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে কোনো নিম্নচাপ বা ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে আরব সাগরে সে সম্ভাবনা কিছুটা হলেও রয়েছে। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের পূর্ব উপকূলে বা বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা এখনও পর্যন্ত নেই। আপাতত বঙ্গোপসাগরের উপর থাকা নিম্নচাপটির গতিপ্রকৃতির উপর চোখ রাখছেন তাঁরা। এপ্রিল ও মে মাস ঘূর্ণিঝড় মরশুম হিসাবে চিহ্নিত। এ সময় বঙ্গোপসাগর বা আরবসাগরে কোনো নিম্নচাপ তৈরি হলে তা সাধারণত শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়।
হাওয়া অফিস বলছে, আপাতত রাজ্যে বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে সৃষ্ট ঝড়বৃষ্টি চলবে। উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও লাগোয়া অঞ্চলে তার মাত্রাও থাকবে বেশি।
শনিবার সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কালিম্পং, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ির বিভিন্ন জায়গায় ১৮০ থেকে ৬০ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় ৬০ থেকে ২০ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। উত্তরবঙ্গে জলপাইগুড়ির ওদলাবাড়িতে সর্বোচ্চ ১৮০ মিমি ও দক্ষিণবঙ্গে বীরভূমের সিউড়িতে সর্বাধিক ৬৩.৬ মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছে ওই একই সময়। এখন বঙ্গোপসাগর থেকে বেশি মাত্রায় জলীয় বাষ্প প্রবেশ করায় বিভিন্ন জায়গায় বজ্রমেঘ তৈরি হচ্ছে। শনিবারও বিভিন্ন জেলায় বজ্রমেঘ তৈরি হয়। পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়ায় সন্ধ্যা নাগাদ বেশি মাত্রার ঝড়বৃষ্টির কমলা সতর্কতা ছিল। কলকাতায় শনিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা (৩৪.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) স্বাভাবিকের থেকে ছিল ১ ডিগ্রি কম। বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত আলিপুর অঞ্চলে ১৬ .৪ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার রাতে আলিপুরে ঘণ্টায় ৫৫ কিলোমিটার গতিবেগে কালবৈশাখীর ঝড় রেকর্ড করা হয়েছে।