• বিজেপি ক্ষমতায় আসার চার বছর পর বেআইনি নির্মাণে নজর পড়ল তৃণমূল শিবিরের! কোচবিহারের জেলা কার্যালয়ে খুলে ফেলা হল বাড়তি অংশ
    আনন্দবাজার | ১৭ মে ২০২৬
  • দীর্ঘ দিন ধরেই কোচবিহার জেলার তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ের বেআইনি নির্মাণ নিয়ে অভিযোগ উঠেছিল। দলীয় কার্যালয়ের সামনে থাকা ড্রেনের একাংশ দখল করে স্থায়ী লোহার গ্রিলযুক্ত সেড ঘর তৈরি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। এ বার রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসেতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া নির্দেশে নড়েচড়ে বসল কোচবিহার জেলার তৃণমূল নেতৃত্ব।

    ড্রেনের উপরের অংশ দখল মুক্ত করতে ভেঙে ফেলা হল দলীয় কার্যালয়ের সামনে অতিরিক্ত ভাবে তৈরি হওয়া লোহার গ্রিল থেকে শুরু করে টিনের শেড। আর এতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। ২০২২ সালে দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের নির্দেশে কোচবিহার শহরের ভাওয়াল মোড় সংলগ্ন এলাকায় জেলা তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ের উদ্বোধন হয়। সেই সময় এই কার্যালয় উদ্বোধন করেন তৎকালীন তৃণমূল সরকারের আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের মন্ত্রী পুলক রায়। ঘটা করে উদ্বোধন করা হয়েছিল সেই কার্যালয়। কয়েক দিন পরেই দেখা যায় কার্যালয়ের সামনে থাকা ড্রেনের ওপর তৈরি করা হয়েছে অবৈধ নির্মাণ। রীতিমতো লোহার গ্রিল দিয়ে তৈরি করা হয়েছে একটি স্থায়ী শেড। কিন্তু সেই সময় কোচবিহার পুরসভার অবৈধ নির্মাণ কিংবা ফুটপাত দখল মুক্ত করতে কোনওরকম অভিযান লক্ষ্য করা যায়নি বলে অভিযোগ। কার্যত পুরআইনকে তোয়াক্কা না করেই জেলা তৃণমূলের কার্যালয়ের সামনে দেখা গিয়েছিল এই চিত্র।

    কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজনৈতিক পালা বদল হতেই দেখা গেল এক উল্টো ছবি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিক বৈঠক করে অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলার কথা ঘোষণা করেন। তার পরেই তড়িঘড়ি দলীয় কার্যালয়ের সামনে থাকা সেই নির্মাণ ভেঙে ফেলল তৃণমূল নেতৃত্ব। খুলে ফেলা হল গ্রিল থেকে শুরু করে টিনের শেড। প্রশ্ন উঠছে, এতদিন কেন ওই জায়গা বেআইনি ভাবে দখল করে রাখা হয়েছিল, কেনই বা পুরসভা এ নিয়ে কোন পদক্ষেপ করেনি? পুরসভার ভূমিকা নিয়েও ক্ষুব্ধ অনেকেই। অন্য দিকে, রাজনৈতিক পালাবদল হতেই কার্যতো শুনশান চেহারা দেখা গিয়েছে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় চত্বর।

    এ বিষয়ে তৃণমূলের জেলার সহ-সভাপতি আব্দুল জলিল আহমেদ বলেন, “জেলা সভাপতির নির্দেশেই দলীয় কার্যালয়ের যে টিনের শেড অংশটুকু তৈরি করা হয়েছিল সেটি খুলে ফেলা হচ্ছে। কারণ সেটি রাস্তার ধারে ড্রেনের উপর তৈরি করা হয়েছিল। প্রশাসনের তরফ থেকে যদি সেটি ভেঙে ফেলা হত তাহলে নষ্ট হত। সেই ক্ষেত্রে আমরা নিজেরাই সেটিকে খুলে ফেলছি।”
  • Link to this news (আনন্দবাজার)