• বালকের মৃত্যু ঘিরে নিগৃহীত ডাক্তারেরা
    আনন্দবাজার | ১৭ মে ২০২৬
  • চিকিৎসার গাফিলতিতে শুক্রবার রাতে সাপের ছোবল খাওয়া এক বালকের মৃত্যুর অভিযোগ ঘিরে ধুন্ধুমার বাধল পুরুলিয়ার পুঞ্চা ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। শনিবার সকালে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর হাতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এক মহিলা চিকিৎসক ও বিএমওএইচ নিগৃহীত হন বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশের সঙ্গে পৌঁছয় কেন্দ্রীয় বাহিনীও। ঘণ্টা তিনেক পুঞ্চা-লালপুর রাজ্য সড়কে অবরোধ চলে। তবে রাতে পুরুলিয়া জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অশোক বিশ্বাস জানান, বিএমওএইচ নবকুমার বিশ্বাসকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব সামলাবেন সত্যব্রত মুখোপাধ্যায়। ওই মহিলা চিকিৎসককেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে জেলা সদরে আনা হয়েছে।

    পুঞ্চার হাতিহাড় গ্রামের বছর আটেকের অরূপ গোপকে শুক্রবার রাত ১১টা নাগাদ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করানো হয়। তাকে চিতি সাপে ছোবল মেরেছিল বলে দাবি পরিবারের। মৃতের বাবা শ্যামল গোপ বলেন, “দেরি না করে দ্রুত ছেলেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করাই। তখন সুস্থ ছিল। কথা বলছিল। মাঝে নার্স এক বার রক্ত নিয়ে চলে যান। আর কেউ আসেননি।” তাঁর দাবি, ধীরে ধীরে তাঁর ছেলের অবস্থা খারাপ হতে থাকে। চিকিৎসা শুরুর কথা বললেও কেউ তা কানে তোলেননি। মাঝে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা মহিলা চিকিৎসক দেখে গেলেও ওষুধ দেননি। রাত দেড়টা নাগাদ অরূপ মারা যায়।

    এ দিন ভোর থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্র চত্বরে বিক্ষোভ শুরু হয়। পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সামনেই মহিলা চিকিৎসককে চুলের মুঠি ধরে টেনে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ। বিএমওএইচ নবকুমার বিশ্বাসের উপরেও চড়াও হন অনেকে। পুলিশ কোনও মতে তাঁকে সরায়। মৃতের পিসি অষ্টমী গোপের দাবি, “ছেলেটা বিনা চিকিৎসায় মারা গেল। অথচ, বিএমওএইচ আসেননি।” যদিও বিএমওএইচ বলেন, “ছেলেটিকে আনার পরে চিকিৎসা শুরু হয়েছিল। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অ্যান্টিভেনমও মজুত রয়েছে। চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ ঠিক নয়।”

    বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি জনপ্রিয় ঘোষ বলেন, “মৃত বালক আমাদের কর্মীর ভাইপো। স্রেফ বিনা চিকিৎসায় মারা গেল। তৃণমূল স্বাস্থ্য-ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে দিয়েছে। আমরা ওই বিএমওএইচকে বরখাস্তের দাবি জানাচ্ছি।” মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের বক্তব্য, “ঘটনার তদন্তে বিশেষ দল পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী পদক্ষেপ হবে। বিষয়টি রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরেও জানানো হয়েছে।”
  • Link to this news (আনন্দবাজার)