• জুলাই থেকে ১২৫ দিনের কাজের প্রকল্প
    আনন্দবাজার | ১৭ মে ২০২৬
  • আগের একশো দিনের কাজের প্রকল্পের উপভোক্তা তালিকায় কোনও বদল না করেই আগামী জুলাই থেকে নতুন প্রকল্প (জি-রাম-জি) এ রাজ্যে চালু করতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। তবে কেন্দ্রের বিধিতে এই প্রকল্পে প্রত্যেক জবকার্ড থাকা ব‍্যক্তির ই-কেওয়াইসি (ব‍্যাঙ্ক অ‍্যাকাউন্ট থাকা ব‍্যক্তির সবিস্তার তথ্য বা নো-ইয়োর-কাস্টমার) বাধ্যতামূলক ভাবে কার্যকর করতে হবে রাজ্যকে। একশো দিনের কাজ প্রকল্পের বিকল্প হিসেবে ‘জি-রাম-জি’ প্রকল্পের প্রশিক্ষণে রাজ‍্যের আধিকারিকদের এই বার্তাই কেন্দ্র দিয়েছে বলে খবর। রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গেই সব কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বন্ধ থাকা দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে। তার পরেই দিল্লির সঙ্গে সমন্বয় শুরু হয়েছে রাজ্যের। অভিজ্ঞ কর্তাদের একাংশের অনুমান, বিগত সরকারের আমলে একশো দিনের কাজের প্রকল্পে যে বিপুল দুর্নীতির অভিযোগ উঠছিল, সে কারণে ই-কেওয়াইসি-র উপর বাড়তি জোর দেওয়া হয়েছিল আগেই। এ বার তা কার্যকর হচ্ছে।

    একশো দিনের কাজের প্রকল্পের আইন বদলে ‘বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ বা জি-রাম-জি চালু করেছে কেন্দ্র। যাতে ১২৫ দিনের কাজ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। এ রাজ্যে প্রশাসনিক আধিকারিকদের যে বার্তা কেন্দ্র দিয়েছে তাতে, জুলাইয়ের আগেই নথিবদ্ধ সব শ্রমিকের ই-কেওয়াইসি কার্যকর করার কাজ শেষ করে ফেলতে হবে। কারণ, এই প্রকল্পে যুক্ত জবকার্ড থাকা শ্রমিকদের মজুরির টাকা জমা পড়বে সংশ্লিষ্টের ব‍্যাঙ্ক অ‍্যাকাউন্টে। ব‍্যাঙ্কের বিধিতে অন‍্যান‍্য গ্রাহকদের যে ভাবে কেওয়াইসি জমা করতে হয়, সে ভাবে এ ক্ষেত্রেও তা করতে হবে সরকারকে। এই ব‍্যবস্থায় সম্পন্ন হবে যোগ‍্য উপভোক্তার পুনর্যাচাই।

    প্রসঙ্গত, বিগত তৃণমূল সরকারের শেষ পাঁচ বছরের মধ্যে একটা বড় সময় ধরে বন্ধ ছিল একশো দিনের কাজের প্রকল্পের কেন্দ্রীয় বরাদ্দ। অভিযোগ, প্রকৃত শ্রমিকদের বদলে ভুয়ো নামে ভরিয়ে ফেলা হয়েছিল উপভোক্তা তালিকা। উপভোক্তাদের একটা বড় অংশের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য ঠিক ছিল না। একের মজুরি জমা পড়ত অন‍্যের অ‍্যাকাউন্টে। এই কারণে একের পর এক কেন্দ্রীয় দল ঘুরে যায় রাজ‍্যে। তাদের সুপারিশ মেনে অনেক পরে পদক্ষেপ করে বিগত সরকার। উপভোক্তা তালিকা সংশোধন করে (প্রায় ৫০ লক্ষ নাম বাদ যায়) কেন্দ্রের অনুমোদন নিতে যেমন হয়, তেমনই তৎকালীন সরকারের মুখ‍্যসচিবকে কার্যত মুচলেকা দিয়ে কেন্দ্রকে আশ্বাস দিতে হয়, এমন গরমিল ভবিষ্যতে হবে না। এক কর্তার কথায়, “সেই প্রক্রিয়ার পরে নতুন প্রকল্পের জন্য উপভোক্তা বা জবকার্ড থাকা শ্রমিকদের যাচাই হওয়া তালিকা প্রস্তুত রয়েছে। কিন্তু ই-কেওয়াইসি কার্যকর করা ছিল না। বরং তা অনেকাংশে বাধার মুখে পড়েছিল। নতুন সরকার কাজ এবং নীতির অভিমুখ স্পষ্ট করে দেওয়ায় অসমাপ্ত সেই কাজ শেষ করতে হবে। তাতে দেড় মাসেরও কম সময় পাওয়া যাবে।”

    আধিকারিকদের একাংশ জানাচ্ছেন, আগের মতো হয়তো বিপুল সংখ্যক কাজের অনুমোদন পাওয়া যাবে না নতুন প্রকল্পে। যে কাজগুলি প্রয়োজনীয় এবং বাস্তবসম্মত, একমাত্র সেগুলিকেই তালিকাভুক্ত করা যাবে। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য, স্থায়ী সম্পদ তৈরি করা। সংশ্লিষ্টরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, বিগত সরকারের সময়ে কাজ বাছাইও গরমিলের অন‍্যতম একটা বিষয় ছিল। যেমন, যেখানে বলা হয়েছিল পুকুর কাটার কথা, বাস্তবে কেন্দ্রীয় দলের যাচাইয়ে সেখানে সেই পুকুর পাওয়া যায়নি। আবার কোনও সড়ক মেরামতের যে তথ্য জানানো হয়েছিল কেন্দ্রকে, যাচাইয়ে দেখা যায় দাবি করা সেই কাজটির বাস্তব ঠিকানা কোনও নদীর মাঝামাঝি এলাকায়। ফলে শুরু থেকে কাজ নির্বাচনের বিষয়টিতে বেশ কড়াকড়ি রাখার বার্তাও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

    তবে আগের তুলনায় প্রকল্পে কেন্দ্রীয় বরাদ্দের ভাগ কিছুটা কমতে পারে। আধিকারিকদের মতে, একশো দিনের কাজের প্রকল্পে কেন্দ্র-রাজ্যের বরাদ্দ ছিল ৯০:১০। এ বার কেন্দ্র ৬০% বরাদ্দ দেবে। বাকি ৪০% দেওয়ার কথা রাজ্যের। কিন্তু আগের প্রকল্পের বেশ কয়েক হাজার কোটি টাকা বকেয়া কি পাওয়া যাবে? এক কর্তার কথায়, “আদালতের রায়ের পরে এখন তো একশো দিনের কাজের প্রকল্প চালুই রয়েছে। কেন্দ্রের দরজা যখন খুলে গিয়েছে, সে সব বকেয়ার বিষয়টিও নিশ্চয় গুরুত্ব পাবে।”
  • Link to this news (আনন্দবাজার)