বাংলায় ‘পুকুর চুরি’ বলে একটা প্রবাদ রয়েছে। বড়সড় লুট বোঝাতে এই শব্দবন্ধ ব্যবহার হয়। কিন্তু কেউ যদি বাড়িতে ঢুকে কল চুরি করে পালায় তা হলে? তাকে কী বলা যায়? শনিবার ছত্তিশগড়ের অম্বিকাপুর শহরের গান্ধী চক এলাকার কংগ্রেসের জেলা কার্যালয়ে ঠিক এমনটাই ঘটেছে। পার্টি অফিস থেকে কল খুলে নিয়ে পালিয়েছে দুষ্কৃতীরা। তাও একটা-দুটো নয়, একেবারে ৭২টা। তবে চোর যথেষ্ট রসিক ব্যক্তি। পালানোর আগে তিনি বাথরুমের মেঝেতে বড় বড় করে লিখে রেখে গিয়েছেন, ‘লাভ ইউ’।
গান্ধী চক ভিআইপি জোন। এখানেই রয়েছে কংগ্রেসের জেলা কার্যালয় রাজীব ভবন। সুসজ্জিত তিন তলা বাড়ি। সারাক্ষণ কর্মী-সমর্থকদের ভিড় লেগেই থাকে। তবে রাতে বন্ধই থাকে পার্টি অফিস। এ দিন সকালে কার্যালয় খোলেন দলের কয়েক জন কর্মী-সমর্থক। তার পরে একজন বাথরুমে যান। কাজ সেরে হাত-মুখ ধুতে গিয়ে দেখেন কল নেই। চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে দেন তিনি। তখনই চুরির ঘটনা নজরে আসে। দেখা যায় শুধু একটা বাথরুম নয়, গেস্ট রুম, রান্নাঘর-সহ পার্টি অফিসের কোনও কলই স্বস্থানে নেই।
কংগ্রেস কর্মীদের দাবি, চোর নিখুঁত দক্ষতায় কলগুলো খুলে নিয়েছে পালিয়েছে। আশপাশে আঁচড়ও পড়েনি। ঘটনার খবর পেয়েই কংগ্রেস কার্যালয়ে ছুটে যান জেলা সভাপতি বালকৃষ্ণ পাঠক। তাঁর দাবি, ‘এটা কোনও নেশাখোর কিংবা সমাজবিরোধীদের কাজ বলেই মনে হচ্ছে।’ তবে মেঝেতে ‘লাভ ইউ’ লেখা দেখে বেজায় চটেছেন কংগ্রেস কর্মীরা। তাঁরা বলছেন, ‘কত বড় দুঃসাহস, না হলে এমন কেউ লিখতে পারে?’
তবে এ বারই প্রথম নয়। এর আগেও রাজীব ভবনে তিন বার চুরি হয়েছে। বার বার এমন ঘটনায় রীতিমতো বিরক্ত জেলা সভাপতি বালকৃষ্ণ পাঠক। শহরের আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে দাবি করে বিজেপি সরকারকে কাঠগড়ায় তোলেন তিনি। বালকৃষ্ণ বলেন, ‘চোরেরা পালানোর আগে মেঝেতে বার্তাও লিখে গিয়েছে। এটা সরাসরি পুলিশ-প্রশাসনকে কটাক্ষ করার সামিল।’ ঘটনার পরেই অম্বিকাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন কংগ্রেস নেতারা।
অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু হয়েছে। কল চুরির ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত চোরের কোনও হদিশ মেলেনি। উদ্ধার হয়নি চুরি যাওয়া কলও। তবে এই ঘটনায় হাসাহাসি চলছে গোটা শহর জুড়েই। চোর কেন শুধু কল চুরি করেই পালাল, প্রশ্ন উঠছে তা নিয়েও।