• কেন্দ্রীয় সংস্থাকে নবান্নের সাতটি হাইওয়ে হস্তান্তর, বিজ্ঞপ্তি মুখ্যসচিবের
    এই সময় | ১৭ মে ২০২৬
  • এই সময়: বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদল হতেই সাতটি গুরুত্বপূর্ণ হাইওয়েকে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল নবান্ন। এর মধ্যে কয়েকটি রাজ্য সড়ক এবং বাকিগুলো রাজ্যের মধ্যে থাকা জাতীয় সড়কের অংশ। রাজ্য পূর্ত দপ্তরের জাতীয় সড়ক শাখার আওতায় থাকা ওই সব রাস্তা চলে যাচ্ছে ‘জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ’ (এনএইচএআই) এবং ‘ন্যাশনাল হাইওয়েজ় অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড’ (এনএইচআইডিসিএল)-এর অধীনে। শনিবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির কাছে ওই সব রাস্তার হস্তান্তর সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল।

    মুখ্যসচিবের ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রাজ্য সরকার এই হস্তান্তরের নীতিগত অনুমোদন দেওয়ার ফলে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির কাজ শুরু করতে আর কোনও আইনি বা প্রশাসনিক বাধা থাকল না। এতে পড়শি রাজ্য বিহার ও সিকিম এবং বাংলাদেশ ও ভুটানের মতো প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পণ্য পরিবহণের অনেকটাই উন্নতি হবে বলে নবান্ন মনে করছে। একই সঙ্গে আশা করা হচ্ছে যে, পরিকাঠামো উন্নয়নের যে কাজ নিয়ে এতদিন টালবাহানা হচ্ছিল, সেই কাজ দ্রুত গতিতে এগোবে।

    প্রশাসনিক সূত্রের খবর, ওই সাতটি রাস্তার ভৌগোলিক ও কৌশলগত গুরুত্ব অনেকটাই। ৩২৯.৬ কিলোমিটার দীর্ঘ জঙ্গিপুর-ওমরপুর-কৃষ্ণনগর-বনগাঁ-বসিরহাট (ঘোজাডাঙা) সংলগ্ন ৩১২ নম্বর রাজ্য সড়ক, ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের বিহার-বাংলা সীমানা থেকে মালদার গাজোল পর্যন্ত অংশ এবং ৩৩ নম্বর জাতীয় সড়কের বিহার-বাংলা সীমানা থেকে ফরাক্কা পর্যন্ত অংশের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ‘এনএইচএআই’-কে। রাস্তাগুলি মূলত মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, মালদা এবং উত্তর ২৪ পরগনার মতো জেলাগুলির সড়ক যোগাযোগকে আরও মজবুত করবে।

    পাহাড় ও আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংলগ্ন চারটি সংবেদনশীল রাস্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ‘এনএইচআইডিসিএল’ -কে। এর মধ্যে রয়েছে সেবক আর্মি ক্যান্টনমেন্ট থেকে করোনেশন ব্রিজ এবং কালিম্পং হয়ে পশ্চিমবঙ্গ-সিকিম সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত ৬৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক। তা ছাড়া, হাসিমারা থেকে ভারত-ভুটান সীমান্ত (জয়গাঁ) পর্যন্ত বিস্তৃত নতুন ৩১৭-এ রাজ্য সড়ক এবং বারাদিঘি-ময়নাগুড়ি হয়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত (চ্যাংড়াবান্ধা) পর্যন্ত নতুন ৭১৭ নম্বর রাজ্য সড়কও এই তালিকায় রয়েছে। পাহাড়ের পর্যটনের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত শিলিগুড়ি (দার্জিলিং মোড়) থেকে কার্শিয়াং হয়ে দার্জিলিং পর্যন্ত বিস্তৃত ১১০ নম্বর রাজ্য সড়কটির রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নের সব দায়িত্বও এখন থেকে সামলাবে এনএইচআইডিসিএল।

  • Link to this news (এই সময়)