• বন্ধ টোল আদায়, বিকল্প উপায়ে সেতুর দেখভালের প্রস্তাব
    এই সময় | ১৭ মে ২০২৬
  • এই সময়, চন্দ্রকোণা: রাজ্যে কোথাও বেআইনি টোল চালানো যাবে না, পালাবদলের পর প্রশাসনের শীর্ষ স্তর থেকে এসেছিল এমনই বার্তা। তারপর থেকে দেখা গিয়েছে, বিভিন্ন জায়গায় রাস্তা থেকে রাতারাতি উধাও হয়েছে টোল। রাজ্য নতুন সরকার গঠনের পরে এ বার তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতের তৈরি টোল প্রথা বন্ধ করে দিল শাসকদল বিজেপি।

    চন্দ্রকোণা-১ ব্লকের মনোহরপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের গাঁংচা ঘাট ও রাসবিহারী ঘাটে শিলাবতী নদীর উপরে পঞ্চায়েতের তৈরি দুটি কাঠের সেতুতে পারাপার করতে হলে এতদিন টোল দিতে হতো। পঞ্চায়েত টেন্ডার ডেকে মোটা টাকার বিনিময়ে দুটি কাঠের সেতু থেকে টোল আদায়ের ব্যবস্থা করে। সেতুর রক্ষণাবেক্ষণে দায়িত্ব দেওয়া হয় দুই ব্যক্তিকে। শুরু থেকেই টোল আদায়ের বিরোধিতা করেছিল বিজেপি। তবে সংখ্যার জোরে বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্যদের আপত্তিকে গুরুত্ব দেয়নি তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত। এমনই অভিযোগ তুলেছিল বিজেপি। কিন্তু রাজ্যে পরিবর্তনের পরে এ বার বিজেপির তরফে বন্ধ করে দেওয়া হল এই টোল আদায়। পঞ্চায়েত প্রধানকে ডেকে সে কথা জানিয়েও দেওয়া হয়েছে বলে জানান বিজেপি নেতৃত্ব। টোল বন্ধ হওয়ায় খুশি এলাকাবাসী থেকে নিত্যযাত্রীরা। তবে টোল আদায় বন্ধে দুটি সেতুর রক্ষণাবেক্ষণের খরচ কোথা থেকে আসবে, উঠেছে সেই সঙ্গত প্রশ্নও।

    স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের যুক্তি, সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দিতে গিয়ে উল্টে তাদের থেকেই টোল আদায় করার বিরোধী বিজেপি। পঞ্চায়েতের এমন অনেক তহবিল রয়েছে, প্রয়োজনে সেখান থেকে সেতুর মেরামতির কাজ করুক পঞ্চায়েত। বিজেপির চন্দ্রকোণা ৫ নম্বর মণ্ডলের সহ–সভাপতি গৌর ঘোষ বলেন, ‘সাধারণ মানুষের থেকে টোল আদায় করে কেন সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ হবে। এর জন্য পঞ্চায়েত বিকল্প উপায় ভাববে। বছরে দুটি সেতু মেরামত করতে বিরাট টাকা জোগাড় করতে হবে এমন নয়। প্রধানকে ডেকে বলে দেওয়া হয়েছে টোল আদায় আর চলবে না। যাঁরা টাকা জমা দিয়ে ডাক পেয়েছিলেন তাঁদের অবিলম্বে টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করুক প্রধান।’

    প্রধান রাম কোটাল বলেন, ‘সারা বছর মানুষ যাতে পরিষেবা পান সে জন্য আমরা টোল বসিয়েছিলাম। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পরে বিজেপির কিছু নেতা টোল ফ্রি করার বিষয়ে আমাকে জানান। ওঁদের বলেছি, যেহেতু টেন্ডার করে সরকারি ভাবে টোল বসানো হয়েছিল। তাই সাধারণ সভায় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত হবে। কিন্তু শুনছি যাঁরা ডাক পেয়েছিলেন, তাঁরা কেউ ওখানে বসছেন না। ফলে এখন ফ্রিতে পারাপার হচ্ছে। যাঁরা ডাক পেয়েছিলেন তাঁরাও কেউ আমাকে জানাননি।’ তবে টোল বন্ধ হলে সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ কী ভাবে হবে, তার সদুত্তর মেলেনি কারও কাছেই।

    চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি পঞ্চায়েতের সাধারণ সভায় দুটি সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ও দেখভালের জন্য ‘ডাক’ –এর সিদ্ধান্ত হয়। ২৭ জানুয়ারি পঞ্চায়েত থেকে ওই দুটি সেতু পারাপারের জন্য টোলের নিয়মাবলি ও রেট তালিকার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। তালিকায় স্কুলের ছাত্রছাত্রী, সাইকেল আরোহীদের ছাড় দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে জনপ্রতিনিধি,পঞ্চায়েত, বিডিও অফিসের আধিকারিক থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মিটিং মিছিলে ছাড় দেওয়া হয়েছিল। সাইকেলে মালবহন, মোটরবাইক, ছোটো যান চলাচলে ৫ থেকে ১৫ টাকা টোল আদায় করা হচ্ছিল। এ ছাড়াও ৬ কুইন্টালের বেশি লোড নিয়ে পারাপার করলে দিতে হচ্ছিল ৩০ টাকা। নিয়ম ভাঙলে ৫০০ টাকা জরিমানাও ধার্য ছিল। এক বছরের জন্য গাঁংচা ঘাট ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ও রাসবিহারী ঘাট ১ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা সর্বোচ্চ ডাক ওঠে। টোল আদায় বন্ধ হওয়ায় টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি তুলেছেন ডাক পাওয়া ব্যক্তিরা। এঁদেরই একজন অসিত পাড়ুই বলেন, ‘বিজেপির কিছু নেতা আমাদের নিষেধ করায় আমরা আর যাইনি। কিন্তু আমাদের জমা দেওয়া টাকা যেন হিসাব করে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এক বছরের জন্য ডাকে নিয়েছিলাম। মাত্র তিন মাস টোল আদায় হয়েছে।’

    টোল আদায় নিয়ে টানাপড়েনের মাঝে বিনামূল্যে সেতু পারাপার করতে পেরে খুশি এলাকাবাসী থেকে নিত্যাযাত্রীরা। হিরু ভূঁইয়া, স্বপন ঘোষ বলেন, ‘টোল উঠে যাওয়ায় আমরা খুশি। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পরে এখানে টোল নেওয়া বন্ধ হয়েছে। সেতুর মেরামতির জন্য সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কেন টাকা আদায় করতে হবে। পঞ্চায়েতের কি ফান্ড নেই!’

  • Link to this news (এই সময়)