‘ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নির্ভর করছে ফরাক্কা চুক্তির উপর! নষ্ট হতে দেব না বাংলাদেশের স্বার্থ’, দিল্লিকে বার্তা তারেকের মন্ত্রীর
আনন্দবাজার | ১৭ মে ২০২৬
বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ফরাক্কা চুক্তির উপর নির্ভর করছে। কী ভাবে গঙ্গার জলবণ্টন হবে, তা দুই দেশের সম্পর্ক নির্ধারণ করে দেবে, এমনটাই দাবি করলেন বাংলাদেশের মন্ত্রী তথা শাসকদল বিএনপি-র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। চলতি বছরের ডিসেম্বরে ফরাক্কা চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। অবিলম্বে সাধারণ মানুষের স্বার্থে চুক্তিটি সম্পাদন করতে হবে বলে দাবি করেছেন তিনি। জানিয়েছেন, বাংলাদেশের স্বার্থের ব্যাঘাত ঘটতে দেবেন না।
১৬ মে বাংলাদেশে ‘ফরাক্কা দিবস’ পালিত হয়। সেই উপলক্ষে ঢাকায় বিএনপি একটি আলোচনা সভার আয়োজন করেছিল শনিবার। সেখান থেকেই ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ তোলেন ফখরুল। তিনি বলেন, ‘‘ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপিত হওয়ার একটা সুযোগ এসেছে। তবে সেটা নির্ভর করবে ভারতের গঙ্গা চুক্তি বা ফরাক্কা চুক্তি সম্পাদনের উপর। আমি এই কথা বিশ্বাস করি। ভারতের কাছেও সেই আহ্বান জানাতে চাই।’’ বাংলাদেশের মানুষের উদ্দেশে ফখরুল আরও বলেন, ‘‘বাংলাদেশের স্বার্থ বিনষ্ট করে আমরা কখনওই কোনও চুক্তি কাউকে করতে দেব না। এ বিষয়ে আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন।’’
ভারতে বাঁধ তৈরি নিয়ে শুক্রবারও অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন বিএনপি মহাসচিব। ফরাক্কা বাঁধকে বাংলাদেশের জন্য ‘মরণফাঁদ’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। বলেছিলেন, ‘‘ভারতের ফরাক্কা বাঁধ বাংলাদেশের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে! দু’দেশের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত নদীতে ভারত একের পর এক বাঁধ নির্মাণ করে জল নিয়ে নিচ্ছে। তা বাংলাদেশের অস্তিত্বের পক্ষে বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।’’ এ বার ফরাক্কা বাঁধের সঙ্গে ভারত ও বাংলাদেশের পারস্পরিক সম্পর্ককেও তিনি জুড়ে দিলেন।
২০২৪ সালের অগস্টে বাংলাদেশে গণরোষের মুখে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেন শেখ হাসিনা। তিনি ভারতে চলে এসেছিলেন এবং সেই থেকে ভারতের আশ্রয়েই আছেন। হাসিনা সরকারের পতনের পর প্রায় দেড় বছর বাংলাদেশের শাসনকার্য নিয়ন্ত্রণ করেছে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। গত ফেব্রুয়ারি মাসে সেখানে সাধারণ নির্বাচন হয়েছে এবং বিএনপি সরকার গঠন করেছে। প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন তারেক রহমান। তিনি ফখরুলকে স্থানীয় সরকার (পুরসভা এবং পঞ্চায়েত) বিষয়ক মন্ত্রকের দায়িত্ব দিয়েছেন। তবে বিএনপি-তে তারেকের পরেই ফখরুলের স্থান। হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়ে ইতিমধ্যে ভারতকে চিঠি দিয়েছে ঢাকা। তবে ভারত থেকে এখনও জবাব যায়নি। মনে করা হয়েছিল, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে কী নীতি গ্রহণ করে, তার উপর দুই দেশের সম্পর্ক নির্ভর করবে। তবে ফখরুল ফরাক্কা চুক্তি নিয়েও দিল্লিকে বার্তা দিয়ে রাখলেন।