NEET–UG প্রশ্নপত্র ফাঁসের দুই ‘মাথা’ গ্রেপ্তার হতেই এ বার সিবিআইয়ের স্ক্যানারে পরিচালন সংস্থা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা NTA-এর সঙ্গে যুক্ত অনেকেই। পুনের কেমিস্ট্রির লেকচারার পিভি কুলকার্নির পরে শনিবার গ্রেপ্তার হন উদ্ভিদবিদ্যার শিক্ষিকা মনীষা গুরুনাথ মান্ধারে। মনীষা NEET-UG প্রবেশিকা পরীক্ষার জন্য NTA-র প্রশ্নপত্র তৈরির কমিটির সদস্য ছিলেন। কুলকার্নিও এক সময়ে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির সঙ্গে কাজ করেছিলেন। রাউস অ্যাভিনিউ কোর্ট মনীষাকে ১৪ দিনের সিবিআই হেফাজতে পাঠিয়েছে। কুলকার্নিকে ১০ দিনের সিবিআই হেফাজত দেওয়া হয়েছে। আর এ বার তদন্তকারীদের স্ক্যানারে আসতে পারে NEET-এর প্রশ্নপত্র তৈরির প্যানেল।
দুই শিক্ষক গ্রেপ্তারের পরে প্রশ্নপত্র তৈরির প্যানেলে যে সদস্যরা ছিলেন, তাঁরাও তদন্তকারী সংস্থার স্ক্যানারে আসতে পারে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রশ্নপত্র তৈরি করেছিলেন ও অনুবাদের কাজে যুক্ত অনেকেই এ বার এজেন্সির রেডারে।
গত শুক্রবার পুনের অবসরপ্রাপ্ত লেকচারার পিভি কুলকার্নিকে গ্রেপ্তার করে সিবিআই। NEET-UG ২০২৬-এর পরীক্ষার পেপার ফাঁসের অন্যতম সূত্র হিসেবে তাঁকে গ্রেপ্তার করে সিবিআই।
প্রার্থীরা ১৩টি ভাষার যে কোনও একটিতে NEET-UG প্রশ্নপত্র বেছে নিতে পারবেন। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবর অনুযায়ী, সূত্র মারফত উঠে এসেছে যে, কুলকার্নি কেমিস্ট্রির প্রশ্নপত্র সেট করার কাজে যুক্ত ছিলেন। একই সঙ্গে মারাঠিতে তা অনুবাদের কাজেও যুক্ত ছিলেন তিনি। সূত্রের খবর, একাধিক বিশেষজ্ঞ NTA-র প্রশ্নপত্র তৈরির কাজে যুক্ত থাকেন। কখনও কখনও একই লোক প্রশ্নপত্র সেট করা ও অনুবাদের কাজও করেন।
সিবিআইয়ের এক মুখপাত্র শনিবার জানান, মান্ধারেকে এনটিএ বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিয়োগ করেছিল এবং বোটানি ও জুলজি বিভাগের কাজে যুক্ত ছিলেন তিনি। NEET-এর প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় আগামিদিনে আরও গ্রেপ্তার হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর। এখনও পর্যন্ত এই কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত সন্দেহভাজন মোট ন’জন সিবিআইয়ের জালে।
মেডিক্যাল কলেজগুলিতে স্নাতক স্তরে ভর্তির জন্য প্রবেশিকা পরীক্ষা NEET-UG। প্রশ্নপত্র ফাঁসের জন্য চলতি মাসের তিন তারিখে যে NEET-UG পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল, তা বাতিল করা হয়। NTA শুক্রবারই জানিয়েছে, NEET-UGর পরীক্ষা আবার নেওয়া হবে ২১শে জুন।