এই সময়, বর্ধমান: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যে রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব–সহ অন্য আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তার প্রতিফলন পড়তে শুরু করেছে জেলাতেও।
শুক্রবার জেলার ১০ জন বিধায়কের সঙ্গে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করেন জেলাশাসক শ্বেতা আগরওয়াল। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ছাড়াও অনেকে বৈঠকে ছিলেন। বিধায়করা তাঁদের এলাকার ব্লক প্রাথমিক হাসপাতাল ও প্রাথমিক হেলথ সেন্টারগুলির সমস্যার কথা তুলে ধরেন। সোমবার এই বিষয়ে ফের বৈঠক হবে বলে জানা গিয়েছে।
জেলার ব্লক প্রাথমিক হাসপাতালগুলির ক্ষেত্রে জোর দেওয়া হয়েছে পরিচ্ছন্নতার উপরে। হাসপাতালের ভিতরে কোনও ভাবেই আবর্জনা, নোংরা পরিবেশ যাতে না–থাকে, সেই বিষয়েও দেখভালের উপরে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এমন কোনও নোংরা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ছবি ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট ব্লক মেডিক্যাল অফিসারকে কেন এমন হলো, তার দায়িত্ব নিতে হবে। কোনও অবস্থায় রোগী থাকা সত্ত্বেও আউটডোর বন্ধ করা যাবে না। শেষ রোগী পর্যন্ত চিকিৎসককে সেখানে থাকতে হবে।
জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জয়রাম হেমব্রম বলেন, ‘শুক্রবারের পরে শনিবারও আমাদের সঙ্গে স্বাস্থ্য ভবনের আধিকারিকদের দীর্ঘ সময় ধরে ভার্চুয়াল বৈঠক হয়েছে। বেশ কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, হাসপাতালকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার উপরে বেশি জোর দিতে হবে। পাশাপাশি রোগী রেফারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মী বা চিকিৎসককে আরও বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে। নির্দিষ্ট কারণ ছাড়া কোনও অবস্থায় রোগী রেফার করা যাবে না।’
এ দিনের বৈঠক প্রসঙ্গে জয়রাম বলেন, ‘বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য আলাদা রংয়ের সচিত্র পরিচয়পত্র নতুন করে দেওয়া হবে। রং দেখেই চিহ্নিত করা যাবে, তিনি কোন দপ্তরের কর্মী। পাশাপাশি আই–কার্ডেও থাকবে তাঁর পরিচয়। প্রতিটি ব্লক প্রাথমিক হাসপাতালে এ বার থেকে বায়োমেট্রিক হাজিরা বাধ্যতামূলক করতে হবে। স্বাস্থ্যকর্মী থেকে চিকিৎসকদের ব্যবহারেও পরিবর্তন আনতে হবে। কোনও রোগী বা রোগীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা যাবে না।’
তাঁর সংযোজন, ‘দালাল–রাজ বন্ধ করতেই হবে। দালাল সন্দেহে রোগী বা তাঁর বাড়ির লোক কী করবেন, তা–ও প্রকাশ্যে ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। শুধুমাত্র সরকারি ছুটি ছাড়া প্রতিটি ব্লক প্রাথমিক হাসপাতালে আউটডোরে হবে প্রত্যেক দিন। প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এখনই সেই নিয়ম শুরু হচ্ছে না চিকিৎসকের অভাবের জন্য। তবুও আমরা চেষ্টা করছি যাতে ওই পিএইইচইগুলোতে সপ্তাহে দু–তিন দিন আউটডোর চালু থাকে।’