• চার বছর ধরে গণধর্ষণ-ব্ল্যাকমেল! রাজস্থানে দিদির আত্মহত্যার দু’মাস পরে আত্মঘাতী বোনও
    এই সময় | ১৭ মে ২০২৬
  • বছরের পর বছর ধরে গণধর্ষণ এবং ব্ল্যাকমেলের শিকার হয়ে আত্মঘাতী হয়েছিলেন এক তরুণী। গত মার্চে এমনই অভিযোগ উঠেছিল রাজস্থানে। দু’মাস পর আত্মঘাতী হলেন সেই তরুণীর বোনও। অভিযোগ, দিদির উপর হওয়া নির্যাতনের বিচার চাইতে গিয়ে তিনিও যৌন হেনস্থার শিকার হয়েছেন। দিনের পর দিন হুমকি দেওয়া হয়েছে তাঁকেও। পুলিশে অভিযোগ জানিয়েও বিচার মেলেনি বলেই দাবি পরিবারের।

    রাজস্থানের জোধপুরের একটি গ্রামের ঘটনা। পরিবারের অভিযোগ, গত শুক্রবার স্থানীয় একট জলের ট্যাঙ্কে উঠে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন তাদের ছোট মেয়ে। এই খবর প্রকাশ্যে আসার পরেই পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন আত্মঘাতী হওয়া দুই তরুণীর বাবা। পুলিশ জানিয়েছে, দুই অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

    পরিবারের অভিযোগ, বড় মেয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন গত ২০ মার্চ। তাঁর চার বছর ধরে গণধর্ষণ এবং ব্ল্যাকমেল করা হচ্ছিল। স্থানীয় ই-মিত্র সেবাকেন্দ্রের এক কর্মী এবং তাঁঁর সহযোগীরা মিলে বড় মেয়ের আপত্তিকর ভিডিয়ো তুলেছিলেন। তার পর তা ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেল করে তাঁকে গণধর্ষণ করা হয়েছে। টাকাও আদায় করা হয়েছে তাঁর কাছ থেকে। এই মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরেই বড় মেয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পরিবারের।

    দিদির মৃত্যুর বিচার চেয়ে গত ১১ এপ্রিল থানায় এফআইআর দায়ের করেছিলেন ছোট বোন। অভিযোগ দায়ের করেছিলেন মোট ৮ জনের বিরুদ্ধে। ছোট বোনের অভিযোগ ছিল, দিদির গোপন ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে অভিযুক্তেরা তাঁকেও যৌন হেনস্থা করেছেন। পুলিশে অভিযোগ দায়ের করে কোনও লাভ হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয় তাঁকে। পরিবারের অভিযোগ, ছোট মেয়ে থানায় এফআইআর দায়ের এক মাস পরেও পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করেনি। তার পরেই আত্মহত্যার ঘটনা।

    জোধপুরের পুলিশ সুপার পিডি নিত্য বলেন, ‘মূল অভিযুক্ত এবং আর এক অভিযুক্তকে পুলিশ ইতিমধ্যেই হেফাজতে নিয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে। বাকিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’ কর্তব্যে গাফিলতি এবং অভিযুক্তদের আড়াল করার চেষ্টার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট পুলিশকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করার আশ্বাসও দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

  • Link to this news (এই সময়)